

মো: মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এবং বিদ্যুৎ না থাকায় গরুর ফার্ম, মুরগীর ফার্মে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায় ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার খেলা, আর রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী।
নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, হৃদরোগী ও ডায়াবেটিস রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ অনলাইন হয়ে যাওয়ায় সেবা পেতে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
এ উপজেলা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই গরমের মধ্যে প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। রাত-দিন অনবরত লোডশেডিংয়ের ফলে জীবনযাপন হয়ে উঠেছে অসহনীয় কষ্টের। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হলেও ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। কারণ বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার বিষয়টি এখন নিত্যনৈমত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যরাত কিংবা ভোরেও বিদ্যুৎহীনতার যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষকে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ঘটছে ব্যাঘাত।
এ উপজেলার কালাই পৌরশহরে চঞ্চল কম্পিউটার ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। জেনারেটরের ডিজেল কিনতেই এখন মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। এবং অনলাইনভিত্তিক সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমার সব কাজ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে নেটও থাকে না। ক্লায়েন্ট ডেলিভারি মিস হলে আয় হারাচ্ছি, রেটিং নষ্ট হচ্ছে।
এ উপজেলার হাতিয়র বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মুরশিদুল আলম হীরা বলেন, ফ্রিজে রাখা দুধ-ঘি সব নষ্ট হচ্ছে। দুপুরে ক্রেতা এলে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এ উপজেলার পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল মজিদ বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে গরম, অন্যদিকে মশার উপদ্রব, এসব কারণে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে রাতে ঘুম না হওয়ায় দিনের বেলাও পড়তে পারছে না।
কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল কর্মকর্তা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জুবায়ের আলী বলেন, মহাস্থানগড় গ্রেড পয়েন্টে সমস্যা হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির।
