

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুরের বাড়িতে তার মরদেহ শেষবারের দেখার জন্য আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা ভিড় করে। কিন্তু এই গ্রামের ছেলে পাইলট তৌকিরকে রাজশাহীতে দাফন করার খবরে গ্রামবাসী অনেকটা মর্মাহত হয়েছে। তারপরও তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামের অনেকেই তৌকিরকে শেষ দেখার জন্য রাজশাহী গেছেন।
গ্রামের অনেকেই বলেছেন, তৌকির খুব ভ্রদ্র, মিশুক, হাসোজ্জল এবং মেধাবী ছাত্র ছিল। তৌকিরের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সবাই রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন দীর্ঘদিন ধরে। তাই মাঝে মধ্যে তৌকিরসহ তার পরিবার দেশের বাড়ি আসতেন। আর তৌকির গ্রামের বাড়িতে আসলেই বন্ধু-বান্ধবসহ মুরব্বীদের সাথে দেখা করতেন এবং মতবিনিময় করতেন।
তৌকিরের বিমান দূর্ঘটনার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজনসহ সারাদেশের মানুষকে যেমন নাড়িয়ে দিয়েছে; তেমনি বাকরুদ্ধ করেছে গ্রমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষ্ণচন্দ্রপুরে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তৌকিরের মামা শওকত আলী জানান, তৌকির ইসলাম সাগর ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরী স্কুলে পড়াশুনা করেন। এরপর সপ্তম শ্রেণিতে গিয়ে ভর্তি হন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে চাকরিতে যোগ দেন। ছোট থেকেই মেধাবী তৌকিরের ইচ্ছে ছিলো পাইলট হবার। পাবনা ক্যাডেট কলেজে পড়াশুনা করা তৌকিরের পরিবার চেয়েছিল ছেলে পড়াশুনা শেষ করে সেনাবাহিনীর অফিসার পদে চাকুরী করুক। কিন্ত তৌকিরের ইচ্ছে পাইলট হবার। আর তাই স্বপ্ন পূরণ হলেও; সেই স্বপ্নই কেড়ে নিল পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের প্রাণ।
তৌকিরের বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষাজীবনের সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দোয়ার আয়োজন করছে।
