

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: প্রায় সারে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ১৮টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে। পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়ার বগী ও দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সংযোগ খালে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সাধারণ মানুষের উপকারের পরিবর্তে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় স্থানীয়রা নিজেদের ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নদী ভাঙনে দেয়া কিছু ব্লক সংগ্রহ করে সেতুর দুই পাশে ধর ধর করে সাজিয়ে তার উপর দিয়ে যাতায়াত করছে। এর ফলে প্রায়ই যাতায়াতকারীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামীরা বেশি সমস্যায় পড়েছে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় দুই পাশে পাকা-আধা পাকা বাড়িঘর থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছে এলাকাবাসীরা। বাঁশবাড়িয়ার কাজেম আলী (৬৫) নামের একজন জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হতে হয়। সেতু পারাপারে হাপিয়ে যাই। আমাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতকুররা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করছে। জসিম খাঁ (৫০) নামের একজন জানান, তার দুই নাতি বগি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। প্রতিদিনই তাদেরকে হাতে ধরে এই সেতু পারাপার করে দিতে হয়। রশিদ সিকদার নামের একজন জানান, আমাদের বাড়ি দশমিনা উপজেলায় হলেও ছেলে মেয়েরা বাউফলের অংশের স্কুলেই পড়াশোনা করছে। প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকি না জানি কোন দুর্ঘটনা ঘটে কি না।
কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ জানান, তার বিদ্যালয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করে। কিন্তু সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় ৪ বছর পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা-যাওয়া করছে। এটা নিয়ে আমরা সর্বক্ষণই দুশ্চিন্তায় থাকি। সেতুটির উভয় পাশে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, বগী খালের উপর এর আগে একটি আয়রন সেতু ছিল। এই সেতুর স্থলে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের বর্তমান সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পান। কাজটি আবুল কালাম আজাদের লাইসেন্সে থাকলেও সাব ঠিকাদার খবির উদ্দীন সিকদার কাজটি করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। দুই পাশের সংযোগ সেতু না করেই ঠিকাদার চলে গেছেন।
এ বিষয়ে খবির উদ্দীন সিকদার বলেন, যথা সময়ে কাজটি শেষ হতো, কিন্তু দুই পাশের বাসিন্দারা সহযোগিতা করেননি। তাই মাটি ভরাটের কাজ করতে পারিনি।
দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন জানান, কাজটি আবুল কালাম আজাদের নামে। কিন্তু কাজটি কিনে খবির সিকদার করেছেন। এখন তাকে ফোন দিলে পাওয়া যায়না। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এরপরেও ঠিকাদার ফোন ধরছেন না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন আলী মীর বলেন, সেতুটি পরিদর্শন করে ডিজাইনসহ বাতিল করেছি। ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জড়িমানা করেছি। নতুন করে ডিজাইন প্রস্তুত করে বরাদ্দের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
