

মমিনুল ইসলাম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার আবারও সরব হয়ে উঠেছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে নিয়মিত যানজট ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে হুহু করে। অথচ গত ২৮ জুন উচ্ছেদ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেদিনই জানানো হয়—সড়কে আর কোনো অবৈধ বাজার বসতে দেওয়া হবে না এবং নিয়মিত নজরদারি করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার উচ্ছেদে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও, বাস্তব চিত্র আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযান চালানোর কয়েকদিন পর নামমাত্র আরও একদিন বাজার সরানো হলেও এখন আবার নিয়মিতভাবে সড়কের ওপর বসছে দোকানপাট। ফলে প্রশাসনের ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর ফল, সবজি, মাছসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসে। এতে সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পথচারীরা যানবাহনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ভাবে দোকান বসাতে একটি চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। প্রশাসন একবার উচ্ছেদ করেই দায়িত্ব শেষ মনে করে, এরপর আর কোনো তদারকি থাকে না।
ত্রিশালের একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “সড়ক উচ্ছেদ হয় একদিনের জন্য, এরপর আবার আগের মতোই বাজার বসে। এই নাটক আর কতদিন চলবে?”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, তদারকির জন্য লোক রাখা হয়েছে। তারপরও যদি বসে তবে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওই স্থানটি (অবৈধ বাজার) সওজের। নিয়ম অনুযায়ী ওটা পৌরসভা ইজারা দিতে পারে না। এ বিষয়ে ইউএনও'র (পৌর প্রশাসক) সাথে কথা বলবো।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলম বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা সহজ, কিন্তু পাবলিকরে ম্যানেজ করা টাফ। ইজারাদারের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বাস্তবতা বলছে, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ বাজার উচ্ছেদে চাই নিয়মিত অভিযান ও সৎ উদ্দেশ্য। অন্যথায়, ‘দায়সারা অভিযান’ আর ‘মিডিয়া প্রতিক্রিয়া’ দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ কমবে না।

