

মনীষ সরকার রানা, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: জুলাই আন্দোলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এ মাসেই সুন্দরগঞ্জের হরিপুর-চিলমারী সেতুটি খুলে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর-চিলমারী (কুড়িগ্রাম) হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর উপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুর চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এ কথাগুলো বলেন।
রেজাউল মাকছুদ জাহেদী আরও বলেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ জুলাই আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতে এ মাসেই সেতুটি উদ্বোধন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। যে কাজগুলো এখনও শেষ হয়নি তা অতি দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলে উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে আলাপ করে উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সেটাও নিষ্পত্তি করা হবে। রাস্তার কাজ যেটুকু বাকি আছে তা এ মাসেই শেষ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা ব্রিজের দু’পাশে অনেক কালভার্ট, সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোর সংযোগ সড়কের কাজ অল্পদিনের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য যে, এখন পর্যন্ত সেতুর ৯৬% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। এ মাসেই শেষ করা হবে সংযোগ সড়ক, সেতু, কালভার্ট এবং নদীশাসনের কাজ।
সেতু পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া, যুগ্ম সটিব সামছুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবুল হাসান, সচিবের একান্ত সচিব আব্দুল্লাহ-আল-নোমান সরকার।
আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন, রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওহাব খান, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মালেক, রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুসা, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুর রহমান প্রামানিক, উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধান ও ইফাদের (ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে শুরু হয় তৃতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ কাজ। চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি হাতে নেয়। শুরুতে ২০২৩ সালের জুনেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, সময় বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৩, এরপর জুন ২০২৪ এবং সর্বশেষ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নতুন সময়সীমা দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে যুক্ত করতে নির্মিতব্য এই সেতুটি কেবল একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি এখানকার মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩৬৭ কোটি টাকা। সংযোগ সড়ক, নদীশাসন, কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে খরচ হয়েছে আরও ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে দুই পাশে ৩.১৫ কিলোমিটার করে নদীশাসন, সুন্দরগঞ্জে ৫০ কিলোমিটার এবং কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে ৭.৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হচ্ছে।
সেতুর গঠনে রয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান, ১৫৫টি গার্ডার। সেতুর উভয় পাশে পানি নিষ্কাশনে ১২টি সেতু ও ৫৮টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।
