ঢাকা
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:০৭
logo
প্রকাশিত : জুলাই ২, ২০২৫

রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাস্তা নয়, যেন ধানক্ষেত! উন্নয়নের নামে বঞ্চনার যেন নীরব সাক্ষী। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণপত্যা (হড়াই ব্রিজ) থেকে চন্দনী হাইওয়ে সংযোগ সড়ক, হড়াই নদী পাড়ের এই সড়ক এখন কাদার সাগর। সেই সড়কে হাঁটু সমান কাদায় দাঁড়িয়ে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলেছেন, আর কত অবহেলা?

প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৩০ ফুট চওড়া এই সড়কের গণপত্যা অংশে মাত্র ১ কিলোমিটার পাকা। বাকি অংশ কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী। সড়কটির ৭৫ ভাগ বালিয়াকান্দী উপজেলায়, কিছু অংশ কালুখালী উপজেলায়, কিছু অংশ রাজবাড়ী সদর উপজেলায়। বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়কই কাদায় তলিয়ে যায়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয় বাঁশের মাচা বা কাঁধে তুলে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিনই পাড়ি দিতে হয় দুর্ভোগের পথ। মাঝেমধ্যে বই খাতা নিয়ে পিছলে পড়ে যায়। নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। কৃষকেরা তাদের ফসল নিউ বাজার যেতে পারে না কাদার কারণে। ভোটের সময় আশ্বাস দেয়। ভোট চলে যায় থাকে শুধু বঞ্চনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় নেতাদের মুখে শুধু প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের ফুলঝুড়ি। কিন্তু ভোট শেষে সবাই হারিয়ে যায়। তারা বলেন, “আমরা যেন ভোটের যন্ত্র, সুবিধার ভাগ আমাদের কপালে নেই। গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে এই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ আসলেও কাজ করা নিয়ে স্থানীয় আওয়াামী লীগের ২ গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে সে কাজ আর আলোর মুখ দেখে নাই।

বড়ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামের সত্তাের্ধ্ব বৃদ্ধ সৈয়দ আলী সর্দার বলেন, “এই বয়সে এসে আর স্বপ্ন দেখি না। শুধু ভাবি, মৃত্যুর আগে যদি একটা পাকা রাস্তা দেখে যেতে পারতাম! কত নেতা-মন্ত্রী আসলো, আশ্বাস দিলো। আমরা শুধু ভোট দেই, আর পরের পাঁচ বছর ধুলো-কাদা আর দুঃখ কাঁধে নিয়ে বাঁচি। আজ ধানের চারা লাগিয়ে বলছি, যদি ধান হয়— অন্তত সেইটুকু তো আমাদের লাভ।”

এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ, এখন দুর্ভোগের সড়কপথ। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় হড়াই নদী ছিল তাদের জীবন-জীবিকার মূল ভরসায় গড়ে উঠেছিল নদীর পাশে এই জনপদ। বড় বড় নৌকা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। এখন নদী শুকিয়ে গেছে, ভরসা শুধু এই সড়ক। সে সময়ে গড়ে উঠা জনপদ আজ অবহেলিত। অথচ বছরের পর বছর কাদা-পানিতে ডুবে থাকা এই রাস্তায় যেন উন্নয়নের ছোঁয়া নেই।

ইসলামপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা বারবার বলেছি, আবেদন করেছি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, এমপি-মন্ত্রী সবাই পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও বাস্তবতা হলো এই সড়কের কাদা আর দুর্ভোগই আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে।

বালিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনদুর্ভোগ আমরা সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইউসুফ হোসেন বলেন, রাস্তাটি সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়েছি। আইডিভুক্ত করা রয়েছে। আপাতত রাস্তটি পাকাকরণের কোন সম্ভাবনা নেই। নতুন করে প্রকল্প পেলে পাকাকরণ সম্ভব হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram