ঢাকা
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৫৮
logo
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫

নড়াইলের গৃহবধু হত্যার ঘটনায় প্রেমিক সেনা সদস্য সহ ৩ জন গ্রেফতার

হুমায়ন কবীর রিন্টু, নড়াইল: নড়াইলের গৃহবধু সুরাইয়া শারমিন দৃষ্টি (৩৩) হত্যায় জড়িত তার প্রেমিক সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দৃষ্টির প্রেমিক নড়াইল শহরের দুর্গাপুরের বাসিন্দা সেনা সদস্য সাইদুর রহমান এবং বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মাহিন্দ্র চালক নয়ন ও তার সহযোগী শহিদুর। মঙ্গলবার ও বুধবার নড়াইল ও বাগেরহাট অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় দৃষ্টিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার প্রেমিক সেনা সদস্য সাইদুর রহমান। এদের মধ্যে নয়নের স্ত্রী আঁখির সাথে বন্ধুত্ব ছিল দৃষ্টির। নিহত দৃষ্টি নড়াইল শহরের আলাদাতপুর এলাকার মৃত আব্দুল করিম মোল্যার মেয়ে। তাঁর স্বামী মাহফুজ রহমানের বাড়ি লোহাগড়া উপজেলায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহফুজ কয়েক বছর ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। দৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী।

স্বজনরা জানান, ৩১ জানুয়ারি যশোরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন দৃষ্টি। পরে তাঁর সন্ধান না পেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি দৃষ্টির লাশ পাওয়া যায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের একটি পুকুরে। শরীরে ইট বাঁধা ও গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেয়া ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে দৃষ্টির গলিত মরদেহ বাগেরহাট থেকে নড়াইলের নিজ বাড়িতে আনা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে নড়াইল পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দৃষ্টির সাথে কয়েক বছর ধরে সেনা সদস্য সাইদুরের সম্পর্ক চলছে। সম্প্রতি সাইদুর দৃষ্টিকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পরিবারের কথা ভেবে দৃষ্টি রাজি হচ্ছিলেন না। তাছাড়া সেনা সদস্য সাইদুরের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় দৃষ্টির মা সবেজান বেগম মঙ্গলবার বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরূদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তাঁর সন্দেহের তালিকায় সাইদুরের নাম রয়েছে। সবেজান বেগম বলেন, তার মেয়ের সাথে সাইদুরের অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্ব। মেয়ে যা কিছু করত সাইদুরের পরামর্শ নিয়ে করত। দৃষ্টিকে হত্যায় সাইদুর সরাসরি জড়িত।

নড়াইল সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শহরের দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা সেনা সদস্য সাইদুর রহমানকে ধরে জনগণ পুলিশে দিয়েছে। ফকিরহাট থানায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে নিয়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দৃষ্টির সাথে দীর্ঘদিন ধরে সাইদুরের পরকীয়া সম্পর্ক চলছে। ফকিরহাটে নিয়ে দৃষ্টিকে তিনি বিবাহের জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানার ওসি এসএম আলমগীর কবীর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানান, সাইদুরের সাথে কয়েক বছর ধরে দৃষ্টির সম্পর্ক। তারা বিয়ের পরিকল্পনা করে ফকিরহাটের জয়পুরে দৃষ্টির বান্ধবী আঁখির বাড়িতে যায়। সেখানে কোন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ সময় দৃষ্টিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাইদুর। পরে মরদেহ সরানোর জন্য আঁখির স্বামী নয়ন ও শহিদুরের সাহায্য নেয়। আসামি ৩ জনই গ্রেফতার হয়েছে। সাইদুর হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram