

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ব্যবসা। বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে কোথাও গ্যারেজে, কোথাও রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ অটোরিকশায় চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি গাড়ির জন্য নেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট ফি। এসব চার্জিং পয়েন্টের অধিকাংশের অনুমোদন নেই। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও কয়েক দিন পর আবার চালু হচ্ছে এ কার্যক্রম।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দেখা যায়, মেইন লাইন থেকে তার টেনে সরাসরি অটোরিকশার ব্যাটারিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ্যে এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি গ্যারেজের মালিক। ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে সরে যান তিনি।
মোহাম্মদপুরের আবাসিক এলাকার সরু গলির শেষ প্রান্তেও দেখা গেছে একই চিত্র। টিনশেডের একটি গ্যারেজে প্রায় ৩০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে আবাসিক সংযোগের বিদ্যুতে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তবে আবাসিক মিটারে বাণিজ্যিকভাবে এতগুলো অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে কি না সে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।
এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সিপিডির হিসাবে, দেশে দৈনিক উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যবহৃত হয়। এর বড় একটি অংশ অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
সিপিডির প্রগ্রাম সহকারী মো. খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ অপচয় ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।’
পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মূল লাইন থেকে সরাসরি বিদুৎ নেওয়া গ্রাহকরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকে আবার বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত লাইন থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এ অবৈধ ব্যবসা করছে।’
