ঢাকা
১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:৩৪
logo
প্রকাশিত : মে ১৭, ২০২৬

জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ

জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে প্রকাশিত নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উদ্বোধনী কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ‘কমপেনডিয়াম অব কেস স্টাডিস অন সারভিক্যাল ক্যান্সার এলিমিনেশন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের সফল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে এক ডোজের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকা বিভাগে ১৫ লাখের বেশি মেয়েকে টিকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করা হয়, যার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য বিভাগে ৬২ লাখের বেশি মেয়েকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মহিউদ্দিন মুহিত।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার এবং রোশ ডায়াগনস্টিকসের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনটি ফোরামে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নারীদের মধ্যে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যান্সার মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান খুঁজতেই কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদনে কমনওয়েলথের ১২টি দেশের কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, আর্থিক সংকট ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের মধ্যেও দেশগুলো কীভাবে টিকাদান, স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে কাজ করছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ফলো-আপ ও কর্মসূচির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে বড় পরিসরে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রে এইচপিভি-ভিত্তিক স্ক্রিনিং, ডিজিটাল সিস্টেম এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কভারেজ বাড়ানোর উদাহরণ তৈরি করেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সংগঠিত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ও জাতীয় রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বেলিজ, ফিজি, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাম্বিয়ার মতো দেশগুলোও নিজ নিজ পর্যায়ে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন মডেল চালু করেছে।

এক ভিডিও বার্তায় গায়ানার প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ ইরফান আলী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে কোনো একক দেশের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনের পাশাপাশি ফার্স্ট লেডি, রাষ্ট্রপ্রধানদের সহধর্মিণী ও অংশীদারদের জন্য একটি ‘সার্ভিক্যাল ক্যান্সার অ্যাডভোকেসি টুলকিট’ও উপস্থাপন করা হয়।

কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, ফার্স্ট লেডিরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। নারীর স্বাস্থ্য, সমতা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিলে প্রতিরোধযোগ্য রোগে নারীর মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফোরামের চেয়ারম্যান ও গায়ানার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী লেসলি রামসামি বলেন, জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা শক্তিশালী করা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ও উপশমমূলক সেবার সুযোগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সহকারী মহাপরিচালক ড. জেরেমি ফ্যারার বলেন, ক্যান্সার মোকাবিলায় প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে।

ফোরামে ক্যান্সার চিকিৎসার অর্থায়ন, জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় ক্যান্সারসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ফোরাম থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ কমনওয়েলথ স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram