

মোবারক হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন আর নেই। রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৫ টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
আজ বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রথম ও বাদ আছর রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে কবিরাজ বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ঢাকাস্থ আজিমপুর গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোর রাতে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গোলাম সারোয়ার মিলন। পরে তাৎক্ষণিক ভাবে ঢাকাস্থ পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে সকাল পৌনে ৫ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুর খবরে পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও নিজ এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুমের লাশ শেষ বারের মত দেখতে তার বাড়িতে ছুটে আসেন রাজনৈতিক সহকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয় স্বজন এলাকার সব শ্রেনীপেশার মানুষ। এসময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অশ্রশিক্ত হয়ে পড়েন অনেক স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরা।
গোলাম সারোয়ার মিলন ১৯৫৭ সালের ৬ নভেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মোতাহার হোসেন সরকারি চাকরি করতেন। মা মৃত হাসিনা বিশ্বাস।
তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। এছাড়া তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
মিলন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৮১-৮২ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এর আগে মিলন ভাসানী-ন্যাপ সমর্থিত বাম ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন। ওই বছরই তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিলন। এছাড়া এরশাদের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা-উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
২০০৭ সালের আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের পর ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিপি) যোগ দেন।পরবর্তীতে আবারও জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে তিনি চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চন ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন গঠিত জনতা পার্টি বাংলাদেশ পার্টিতে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দলটিতে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দলটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হন।
মরহুম গোলাম সারোয়ার মিলনের ছেলে সাবায়ের সারোয়ার বলেন, বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রথম ও বাদ আছর রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে কবিরাজ বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ঢাকাস্থ আজিমপুর গোরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
সাবেক এই মন্ত্রী মিলনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শোকসন্তোপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, সাবেক এমপি সৈয়দ আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, সিংগাইর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, আবিদুর রহমান খান রোমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভুইঁয়া জয় ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠুসহ বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
তাঁরা মরহুম গোলাম সারোয়ার মিলনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত করেন। সেই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

