

টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ। গ্রুপ পর্বের ৪০ খেলা শেষে চূড়ান্ত হয়েছে আট দল। পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে সুপার এইট। সুপার এইটে খেলতে পারত বাংলাদেশ। খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারতের মাটিতে ২০ দলের বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ। লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমানদের পরিবর্তে ২০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলেছে স্কটল্যান্ড। বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় টাইগার ক্রিকেটাররা অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলেছেন। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএল ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখন সিলেটে। সেখানে বিসিএল খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতিটা মূলত আগামী মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে। জাতীয় দলের খেলা না থাকায় কোচিং স্টাফ অনেকটাই বিশ্রামে। টাইগারদের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। মিডিয়ার মুখোমুখিতে বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের (সাবেক) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ‘মিথ্যুক’ বলেছেন, ‘উনি (আসিফ নজরুল) খাড়ার ওপর এ রকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব! উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এক শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারছি না।’
হঠাৎ আসিফ নজরুলকে নিয়ে এমন করার কারণ কী? বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি। এই না খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার, এমনটাই মিডিয়ার মুখোমুখিতে বলেছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কারণ ব্যাখ্যায় জানিয়েছিলেন, ভারতের মাটিতে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, মিডিয়া ও সমর্থকদের নিরাপত্তার কথা। তার মন্তব্যের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এরপর ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থানে অনড় থাকেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তখন থেকেই চরমভাবে সমালোচিত হতে থাকেন আসিফ নজরুল। এর মাঝে ১০ ফেব্রুয়ারি আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘কোনো রিগ্রেটের (অনুশোচনা) প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং খেলোয়াড়রা। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করেছে দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য। মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য ভূমিকা রেখেছে।’ ক্রীড়া উপদেষ্টার বিশ্বকাপ না খেলার অনড় অবস্থানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুই ক্রিকেটার অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন। ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এমন অবস্থায় তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনেন সালাউদ্দিন। গতকাল সে কথাও বলেন টাইগার সহকারী কোচ, ‘আমি তো জানি আমার দুটি খেলোয়াড় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।’
সহকারী কোচ সালাউদ্দিনের মন্তব্যের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি এবং অন্য পরিচালকরা কেন বোঝাতে পারেননি।

