ঢাকা
১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ২:০২
logo
প্রকাশিত : জুলাই ৮, ২০২৫

দ্রুতই নির্বাচনী পালে হাওয়া

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না—এ প্রশ্নে এক ধরনের অস্পষ্টতার মধ্যেও ইতিবাচক উত্তরই মিলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী নির্ধারণসহ নির্বাচনমুখী নানা তৎপরতা এবং সংস্কার নিয়ে দ্রুত সংলাপ শেষ করতে দলগুলোকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহযোগিতার আহবান নির্বাচন আসন্ন বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এ ধারণা পোষণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ। তিনি গতকাল বলেন, সংশয়-সন্দেহের মধ্যেও নির্বাচনমুখী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেই আমার মনে হয়।

অনেকের পর্যবেক্ষণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে আসার পর গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য ফুল গিয়ারে প্রস্তুতি চলছে। আমাদের ফোকাস জাতীয় নির্বাচন। এই মুহূর্তে আমাদের প্রস্তুতি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি নেই।’ তিনি আরো বলেন, সময় এলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ জানানো হবে। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর উত্তরায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর ও উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আর পাঁচ-ছয় মাস পরেই নির্বাচন ধরে পুলিশ প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ওই সময়ের মধ্যেই পড়ে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, ব্যাংক খাতের কিছু সংস্কার সময়সাপেক্ষ। এটা আমরা করতে পারব না; নির্বাচিত সরকার এসে করবে। তিনি আরো বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আগেই যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা দিতে সরকার কার্পণ্য করবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

যেসব দল সম্প্রতি সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবিতে সরব, সেসব দলও বর্তমান আসনভিত্তিক ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ বা এফপিটিপি পদ্ধতির নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে বা প্রার্থী নির্ধারণের কাজ চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আগে থেকেই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরও আসনভিত্তিক নির্বাচনের জন্য দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী বাছাই কর্মসূচি চলমান। জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। নতুন এই দলটির চলমান পদযাত্রা কর্মসূচিতে যে অঞ্চলগুলোতে জনতার উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে, সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। একই সঙ্গে এই পদযাত্রায় নির্বাচনের আগেই জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ বা সংস্কার এবং গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে। অন্য দলগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির সমমনা ও বামদলগুলো ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিদ গত ৬ জুলাই বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে তাদের ঘড়ি প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত মতবিনিয়ময়সভায় বলেন, নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো আসনভিত্তিক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। ওই সভায় বৃহত্তর কুমিল্লায় ১৬টি আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির আশা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঈদুল আজহার আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনসংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্থে যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।’ বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখী ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনেন।

বৈঠক সম্পর্কে যৌথ বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য হিসেবে বলা হয়, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।’ কিন্তু সংস্কারে পর্যাপ্ত অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে নানা নেতিবাচক দিক উল্লেখ করে এ পদ্ধতির বিষয়ে সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকলেও কয়েকটি দল এ পদ্ধতির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। গত ২৯ জুন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সত্যি কথা হচ্ছে, আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমরা খানিকটা পিছিয়ে আছি।’ কিন্তু এই অবস্থার মধ্যেও বিএনপি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সম্পর্কে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে সম্মত হয়। নিজ অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ রাখার প্রস্তাবে সম্মত হয় বিএনপি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভাবমূর্তি উন্নত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক এই অবস্থায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সোমবার সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই আশা প্রকাশ করেন যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই আশাবাদী যে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ-জাতি গণতন্ত্রে ফিরে যাবে। জনগণের যে গণতন্ত্রের অধিকার, সেটা প্রতিষ্ঠিত হবে। যেটাকে আমরা বলি রাইট ট্র্যাক, দেশ সেখানে উঠবে বলে মনে করি।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, শত্রু অনেক, বাধা দিতে চায়, আটকাতে চায়, দেরি করতে চায়। আমাদের সেগুলো পাড়ি দিতে হবে। নির্বাচনের যত দেরি হবে, তত বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ আসবে না, ইনভেস্টমেন্ট হবে না। আমাদের ছেলেদের কর্মসংস্থান বাড়বে না, আমার মায়েরা, মেয়েরা আরো বেশি নিরাপত্তা হারাবে। মব জাস্টিস বাড়বে। জুরিশিয়াল সিস্টেম আরো ভেঙে পড়বে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো ভেঙে পড়বে।’ সে জন্য একটা নির্বাচিত সরকার দরকার। নির্বাচিত সরকারের চেয়ে শক্তিশালী আর কোনো সরকার হতে পারে না।’

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিনি আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে কথা বলেছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটা সময় নির্ধারণ করেছেন।’

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে আপত্তি নেই জামায়াতের : একটি নির্বাচিত সরকার অনেক সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে যেনতেন একটি নির্বাচন তাঁরা চান না।

গত রবিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত ওই সংলাপে আবদুল্লহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘যেনতেন নির্বাচন চাই না মানে আমরা নির্বাচন চাই না—বিষয়টা তা নয়। এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে। আর যেনতেন ইলেকশন যদি কেউ চান, আমরা তাদেরও চাই না। যেনতেন নির্বাচন যারা করেছে, আমরা তাদের বিতাড়িত করেছি।’

পাঁচ-ছয় মাস পর নির্বাচন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি : পাঁচ-ছয় মাস পর জাতীয় নির্বাচন হবে ধরে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গত রবিবার রাজধানীর উত্তরায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর ও উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেকে অনেক কথা বলেন, এটা তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, আমি উনাদের প্রশ্নের উত্তর দেব না। আমাদের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। যেহেতু আরো সময় আছে পাঁচ-ছয় মাসের মতো। আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো অসুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনটা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে না। নির্বাচনে প্রশাসনে যাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, তাঁরা ছাড়াও নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবার দায়িত্ব রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি দরকার যাঁরা ইলেকশনে পার্টিসিপেট করছেন। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।’

ঐকমত্যের আলোচনা দ্রুত শেষ করতে সহযোগিতার আহবান : এদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কার বিষয়ে আলোচনা শেষ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের দশম আলোচনায় বিচারব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সমপ্রসারণে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থানে যেসব উপজেলা জেলা সদরের নিকটবর্তী, সেখানে আদালত স্থাপনের বিপক্ষে দলগুলো। একইভাবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জরুরি অবস্থা জারির নতুন বিধান কী হবে তা নিয়ে নানা প্রস্তাব থাকলেও বিদ্যমান বিধান পরিবর্তনে সবাই একমত।

জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) নিয়ে অধিকাংশ দলের আপত্তি থাকায় সংশোধনী এনে ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। প্রাথমিক প্রস্তাবে সংবিধানের মূলনীতিতে বহুত্ববাদ নিয়ে দলগুলোর আপত্তি থাকায় সংশোধিত প্রস্তাবে তা নেই। একইভাবে চার প্রদেশে ভাগের প্রস্তাবে দলগুলোর দ্বিমতের কারণে উপস্থাপন করা হয়নি।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেদিকে কমিশন নজর রাখছে। সবার মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অগ্রসর হচ্ছে কমিশন। অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে। আমাদের সময়স্বল্পতার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।’ দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নির্বাচনের যত দেরি হবে, বাংলাদেশ তত পিছিয়ে যাবে।’ দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করুন।’

গতকাল সোমবার সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জনসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের আমন্ত্রণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সিলেট আসেন।

গণতন্ত্রে ফেরা সহজ হবে না মন্তব্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শত্রু অনেক, তারা বাধা দিতে চায়, আটকাতে চায়, দেরি করাতে চায়। আমাদের সেগুলো পাড়ি দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, সরকারকে বলতে চাই, অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও বলতে চাই, নির্বাচনের যত দেরি হবে, তত বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ আসবে না, ইনভেস্টমেন্ট হবে না। আমাদের ছেলেদের কর্মসংস্থান বাড়বে না, আমার মায়েরা মেয়েরা আরো বেশি নিরাপত্তা হারাবে। মব জাস্টিস বাড়বে। জুডিশিয়াল সিস্টেম আরো ভেঙে পড়বে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো ভেঙে পড়বে।’

সে জন্য একটা নির্বাচিত সরকার দরকার জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে সরকারের পেছনে মানুষ আছে, যে সরকারের পেছনে জনসমর্থন আছে, বন্ধুগণ মনে রাখবেন, নির্বাচিত সরকারের চেয়ে শক্তিশালী আর কোনো সরকার হতে পারে না।’

তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিনি আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে কথা বলেছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটা সময় নির্ধারণ করেছেন।’

বিএনপির ৩১ দফাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। আমরা আমাদের তরুণ, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে একটা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। সে জন্য আমরা বিএনপি থেকে ৩১ দফা দিয়েছি। এই ৩১ দফার মধ্যেই আছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। যে স্বপ্ন আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হাসিনার দোসররা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে শেখ হাসিনার লোক এখনো রয়ে গেছে। তারা চাচ্ছে না বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। চাচ্ছে না দেশে গণতন্ত্র ফিরুক। আর আরেক শ্রেণির লোক আছে, ক্ষমতায় বসে তারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে।’

ভোটাধিকারের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অনেক আমলা যা বলছে, তাতে নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে হয় না। কিন্তু বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে। প্রয়োজনে ভোটের অধিকারের জন্য আবার আমরা আন্দোলনে নামব।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্যও আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় এই দোয়া মাহফিল।’

পিআর পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যাঁরা পিআর পদ্ধতির কথা বলছেন, তাঁরা এই বিষয়ে ভালোভাবে জেনে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ যে পদ্ধতিতে নির্বাচনে অভ্যস্ত, সেই পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা বলছেন পিআর পদ্ধতি। এর কথা বাংলাদেশের মানুষ কখনো শোনেনি। আজ আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, যাঁরা পিআর পদ্ধতির কথা বলছেন, তাঁরাও পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না।’

অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. জাহিদ হোসেন, সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউস, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ডা. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীসহ বিএনপির ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram