

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোন কলাতলী ডলফিন মোড়ের প্রসিদ্ধ খাবার হোটেল বৈশাখী রেস্তোরাঁ এন্ড লাহাব কাবাব গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে ভাম্যমাণ আদালতের অভিযানে রেস্তোরাঁটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তবে রেস্তোরাঁ মালিক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এমনকি পূর্ব নোটিশ না দিয়ে চালানো অভিযানে রেস্তোরাঁর মালামাল সরানোরও সুযোগ দেয়া হয়নি। এতে অন্তত ৭০/৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রেস্তোরাঁ মালিক কামরুল ইসলাম।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এতে তিনি বলেছেন, হামিদ গংয়ের পক্ষে যে জমি ছিল তা ২০০৪০ দাগে এবং উচ্ছেদ করা বৈশাখী রেস্তোরাঁর জমির দাগ নং ২০০০৩। হামিদ গংয়ের জমি ইতোপূর্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেন। কিন্তু লোভী হামি কুমানসে আমার বৈশাখী রেস্তোরাঁর জমিতে তাদের স্বত্ব রয়েছে দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে বৈশাখী রেস্তোরাঁ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বৈশাখী রেস্তোরাঁর উপর স্থিতিবস্থা জারি করেন। জমির পাশে সেই নিষেধাজ্ঞার সতর্কীকরণ নোটিশও টানানো রয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই অভিযানটি চালিয়ে বৈশাখী রেস্তোরাঁ অন্যায় ভাবে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রেস্তোরাঁ মালিক কামরুল ইসলাম জানান, অভিযানের পূর্ব কোনো নোটিশও তাকে দেয়া হয়নি। এমনকি আকস্মিক অভিযান চালানোয় রেস্তোরাঁর একটি জিনিসও বের করা সময় না দিয়ে ধুন্ধুমার পরিবেশ সৃষ্টি করে রেস্তোরাঁটি মুহূর্তের মধ্যে গুড়িয়ে দেয়। এসময় অনেক পর্যটক রেস্তোরাঁয় খাবাররত ছিলেন। এমন ভীতিকর পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ে তারা। পুরো এলাকাজুড়ে এক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বলেন, আমার সাথে যা করা তা অত্যন্ত জঘন্য। এমন জঘন্য আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই অন্যায় মেনে নেয়ার মতো নয়। আমার সর্বসম্বল গুড়িয়ে দিয়ে আমাকে পথের ফকির বানিয়ে দিয়েছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি অন্যায়ের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, দু'পক্ষের মামলা রয়েছে আদালতে। আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

