ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 13, 2026

খানাখন্দে বিপজ্জনক ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক

মেহেদী হাসান, পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে রয়েছে খানাখন্দ। বেলপুকুরিয়া থেকে বানেশ্বর, শিবপুর, বিড়ালদহ, পুঠিয়া সদর হয়ে ঝলমলিয়া পর্যন্ত কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়েছে, কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। মাঝেমধ্যে মেরামতির কাজ চললেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

বিশেষ করে পুঠিয়া সদর, ঝলমলিয়া-সহ মহাসড়কের কয়েকটি অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুতগতির মহাসড়কে হঠাৎ গর্ত সামনে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য বিপদ আরও বেশি। এর সঙ্গে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় যাত্রী ও চালকেরা।

মহাসড়কের দুরবস্থা শুধু গর্তেই সীমাবদ্ধ নয়। বানেশ্বর হাট এলাকায় সড়কের ওপর ধুলাবালির দাপট, ব্যস্ত মহাসড়কের ওপর হাট বসা এবং যানবাহনের চাপ—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ। কোথাও যানজট, কোথাও ধুলায় আচ্ছন্ন পরিবেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেমধ্যে মহাসড়কের গর্ত মেরামত করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই একই জায়গায় ফের দেখা দেয় খানাখন্দ। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে মেরামত হলেও তার সুফল দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

বারবার মেরামতের পরও কেন একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে টেকসই সংস্কার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এই দুর্ভোগের অবসান হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪২৪ কিলোমিটার সড়কের তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এই অর্থে কোন কোন সড়কের কতটা অংশ মেরামত করা হয়েছে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং মেরামতের কাজ কত দিন স্থায়ী হয়েছে—সেসব তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবও জরুরি মেরামতের কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে করা মেরামত খুব একটা টেকসই হয় না।

মহাসড়কের খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন অনেক চালক। নাটোর থেকে মোটরসাইকেলে রাজশাহী যাওয়ার পথে গর্তের কারণে দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামে এক আরোহী।

তিনি বলেন, “এমন মহাসড়কে যদি ভাঙাচোরা গর্ত থাকে, তা হলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। আজ আমি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। মহাসড়কের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত।” তাঁর আশঙ্কা, দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের পথে এভাবে গর্ত পড়ে থাকলে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, “জরুরি মেরামতের কাজে যে উপকরণ ব্যবহার করা হয়, সেই কাজ খুব একটা টেকসই হয় না। ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার মতো, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি মেরামতের কাজ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, তিনি নিয়মিত সড়কগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। নির্দিষ্ট কোনও স্থানে সড়কের অবস্থা খারাপ থাকলে তাঁকে জানানো হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—জরুরি মেরামত যদি সাময়িক স্বস্তিই দেয়, তা হলে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ কবে? গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির টেকসই মেরামত, বানেশ্বর হাট এলাকায় ধুলাবালি ও যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে কীভাবে?

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram