

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। এতে জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ আরও বেড়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে সাতক্ষীরায় মোট ২৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন করে রোগী ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অনেক সময় শুরুতে সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
