

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বসেরা সব আক্রমণভাগকে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে একাই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাস গড়তে আসা কেপ ভার্দে নামের ছোট এক দ্বীপরাষ্ট্রের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিল পুরো বিশ্ব। আর এবার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তির বিনিময়ে কোনো গোল্ডেন গ্লাভস বা ট্রফি নয়, বরং বিজ্ঞানের খাতায় বিরল ও ঐতিহাসিক এক সম্মান পেলেন ভোজিনিয়া। ক্যারিবীয় সাগরে সদ্য আবিষ্কৃত লাল রঙের এক প্রজাতির নতুন সামুদ্রিক শামুকের সি স্লাগ নামকরণ করা হয়েছে ভোজিনিয়ার নামানুসারে!
স্পেনের ওভিয়েদো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ বছর বয়সী প্রফেসর ইমেরিটাস ও অন্ধ ফুটবল ভক্ত স্পেনীয় জীববিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া লাল রঙের এই ক্ষুদ্র কম্বোজ গোত্রীয় প্রাণীটি আবিষ্কার করেছেন। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে ভোজিনিয়া যেভাবে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং কেপ ভার্দেকে তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন—সেই লাল রং ও ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণে রেখে ওর্তেয়া প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম রেখেছেন ‘আলদিসা ভোজিনিয়া’। পরবর্তীতে শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার আগে ভোজিনিয়ার এই রূপকথা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাতারাতি তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে লাফিয়ে হয়ে যায় ১ কোটি ৭৪ লাখ, যা যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্রেডির জনপ্রিয়তার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
ফুটবলের ভালোবাসার সঙ্গে বিজ্ঞানের মিল ঘটানো প্রফেসর হেসুস ওর্তেয়ার জন্য অবশ্য এটি প্রথম নয়। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির সাবেক কস্টারিকান গোলরক্ষক কেইলর নাভাস এবং স্প্যানিশ ক্লাব স্পোর্টিং গিহনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার কিনির প্রতি সম্মান জানিয়েও প্রাণীর নামকরণ করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে কেপ ভার্দের জলসীমায় গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ ‘মেডেল অব মেরিট’ পাওয়া এই স্প্যানিশ বিজ্ঞানী এবার ফুটবল বিশ্বের নতুন নায়ক ভোজিনিয়ার নামটি সাগরের তল অবধি ছড়িয়ে দিলেন।
