

অবশেষে ছন্দে ফিরলো ব্রাজিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাতেউস কুনার জোড়া গোলে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলাসাওরা। দলের হয়ে অন্য গোলটি করে ভিনিসিউস জুনিয়র। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতির মুখোমুখি হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর সমালোচনার মুখে পড়া ব্রাজিল, দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এই ম্যাচে। হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে উঠে গেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া কুনা ২৩তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। হাইতির ডিফেন্ডার হ্যানেস ডেলক্রোইক্স বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কুনার গায়ে লাগালে তা জালে জড়িয়ে যায়। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এই গোলেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
তবে দ্বিতীয় গোলটি ছিল কুনার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল। ভিনিসিউস জুনিয়রের বাড়ানো বলে ৩৬তম মিনিটে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিউস জুনিয়র। সাবেক ওয়েস্ট হ্যাম মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে শান্ত মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় গোল।
তবে জয় পেলেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাফিনিয়ার চোট। বার্সেলোনা উইঙ্গার প্রথমার্ধেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলি হিসেবে নামেন বোর্নমাউথের রায়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে একবার হাইতি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন দারুণ এক সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। কর্নার থেকে রিকার্দো আদে হেডে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলেও সফল হতে পারেননি।
ম্যাচের শেষদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কিশোর ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এই ম্যাচে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি বয়সি দল নিয়ে খেলতে নামে সেলেসাওরা। যাদের গড় বয়স ৩০ বছর ১৯০ দিন। আর ১৯৬২ সালে গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২১৬ দিন। এছাড়া ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার একই বিশ্বকাপ ম্যাচে ২০ বছরের কম বয়সী দুজন খেলোয়াড়, রায়ান ও এন্ড্রিককে ব্যবহার করল ব্রাজিল। এর আগে, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল পেলে ও মাজেলা।
