

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জয়দেবপুর আবাসন এলাকায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসের ব্যবধানে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন এবং সচেতন মহল এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জানুয়ারি মাসে খাদিজা (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ওসমান গনি (৫) মারা যায়। পরবর্তীতে ওমর ফারুক (৮)-এর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি গলিতে পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ২৬ মে জুইফা (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চারজনই পশ্চিম জয়দেবপুর আবাসন এলাকার বাসিন্দা এবং পশ্চিম জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় চার শিশুর মৃত্যু তাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুগুলোর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ঘটনাগুলোকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এর প্রভাব পড়েছে পশ্চিম জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরা বেগম জানান, ঘটনার পর কিছুদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক অভিভাবক সন্তানদের একা বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে চার শিশুর মৃত্যু হওয়ায় জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন।
খানপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকবর আলী বলেন, একই এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে চার শিশুর মৃত্যু অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান হওয়া দরকার।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ মতামত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ধারাবাহিক চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উদ্যোগ নেবে। এতে একদিকে জনমনে সৃষ্টি হওয়া শঙ্কা দূর হবে, অন্যদিকে ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
