

ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আর. মাধবন। ব্যক্তিগত জীবনে ভালোবেসে সারিতার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন ‘থ্রি ইডিয়টস’খ্যাত এই তারকা অভিনেতা। এ সংসারে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে আর. মাধবনকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ স্বামী হিসেবে জানেন। স্ত্রী সম্পর্কে তার আন্তরিক মন্তব্য, পারিবারিক মূল্যবোধ ভক্তদের মুগ্ধ করে।
রণবীর আল্লাবাদিয়ার পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্ত্রী সারিতাকে নিয়ে আর মাধবন বলেন, “অন্য দম্পতিদের মতো আমাদেরও ঝগড়া হয়। আমরা একে অপরকে গভীরভাবে সম্মান করি। সারিতার কাছে আমি শুধু একজন জাতীয় তারকা বা অভিনেতা নই, যার স্ত্রী হওয়া তার জন্য সৌভাগ্যের কোনো বিষয়। সে আমার সমান অংশীদার—যে মানুষটির প্রেমে পড়েছিলাম এবং যাকে আমি সম্মান করি। তাকে পেয়ে আমি কতটা ভাগ্যবান, তা বোঝানোর জন্য কোনো সুযোগই হাতছাড়া করি না।”
সারিতা-মাধবনের সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পেশাগত জীবনেও তার প্রভাব রয়েছে। মাধবনের বেশ কয়েকটি সিনেমায় কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেছেন সারিতা। এর মধ্যে রয়েছে—‘গুরু এন আলু’ অন্যতম। রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার তামিল ভাষার এ সিনেমা ২০০৯ সালে মুক্তি পায়।
চলচ্চিত্র জগতের ব্যস্ততার মাঝেও দাম্পত্য সম্পর্ক কীভাবে মজবুত রাখা যায়, এ নিয়ে মাধবনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পরিচালক মণি রত্নম; যা তাকে অনেক সাহায্য করেছে। এ তথ্য স্মরণ করে আর. মাধবন বলেন, “তিনি (মণি রত্নম) বলেছিলেন, ‘অনেক দম্পতি অযথা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, যা তাদের সম্পর্ক বিপদের মুখে ফেলে।’
আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আউটডোর শুটিংয়ের সময় সুন্দরী অভিনেত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর মতো নানা প্রলোভন থাকে। তাই আমি সারিতাকে সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে যেতাম। ফলে যখন নতুন কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে পরিচয় হতো, সারিতাও সেখানে থাকত। বাইরে শুটিংয়ের সময় আমি কখনো একা থাকতাম না। আর যখন সারিতা আমাকে কোনো রোমান্টিক দৃশ্যে দেখে, তখন সে জানে যে ওই অনুভূতিগুলো বাস্তব নয়, অভিনয়েরই অংশ।”
এর আগে আনফিল্টারেড এন্টারটেইনমেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করোনা সংকটের সময় নিয়ে কথা বলেন আর. মাধবন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী বলে, ‘তুমি কখনো কাজ থেকে দূরে থাকতে পারবে না—তুমি তামিল কমেডি করো, তামিল অ্যাকশন করো, ওটিটি করো, হিন্দি অ্যাকশন করো, ইংরেজি ওটিটিও করো। তাই তোমাকে বাড়িতে দেখে অবাক হই।’ ২০২০ সালের কোভিডের সময় সে আমাকে প্রায় বাড়ি থেকে বের করেই দিয়েছিল। সে বলেছিল, ‘বাইরে যাও, কিছু কাজ করো, টাকা উপার্জন করো।”
আর. মাধবনের কর্মজীবন সম্পর্কে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখতে সারিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মতে, “কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেছিল সারিতা।” একটি ঘটনা উল্লেখ করে আর. মাধবন বলেন, “একদিন আমার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার কী হয়েছে?’ সে বলল, ‘তুমি এখন এমনভাবে কাজে যাচ্ছ, যেন সেখান থেকে দ্রুত ফিরে আসতে চাও।’ কথাটা আমার কাছে খুবই অর্থবহ মনে হয়েছিল।”
আর. মাধবনের ছাত্রী ছিলেন সারিতা। ক্লাস রুমে তাদের প্রথম পরিচয়; ধীরে ধীরে সম্পর্কে জড়ান তারা। প্রায় আট বছর প্রেম করার পর বিয়ে করেন আর. মাধবন-সারিতা। ১৯৯৯ সালে ঐতিহ্যবাহী তামিল রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। মূলত, বিয়ের পর তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন আর. মাধবন।
*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
