ঢাকা
৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:২১
logo
প্রকাশিত : মে ৩১, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সৈকত দখল, গড়ে উঠছে শত শত দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: উচ্ছেদ অভিযানের তিন মাসও পার হয়নি। এরই মধ্যে আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের বালিয়াড়ি। সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের এলাকায় বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান দখল করে নতুন করে চার শতাধিক দোকান ও অস্থায়ী রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে এসব দোকান নির্মাণ করা হলেও তা ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত চার থেকে পাঁচ দিনে সুগন্ধা সৈকত এলাকায় অন্তত চার শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৈকতের বিভিন্ন বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগানে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ দোকান ও স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক দিন পর সৈকত পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, উচ্ছেদ করা বালিয়াড়ি যেন পুনরায় দখল না হয় এবং সেখানে আর কোনো দোকান বসতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর নজরদারির অভাবেই আবারও বালিয়াড়ি দখল শুরু হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) বিকালে সুগন্ধা সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে যেসব স্থান থেকে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেসব স্থানেই আবারও সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। সুগন্ধা জামে মসজিদ সংলগ্ন বালিয়াড়িতে শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। তবে অধিকাংশ দোকানেই কোনো সাইনবোর্ড নেই। দোকান মালিকদের পরিচয় জানতে চাইলে কর্মচারীরা এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। সৈকতের দোকানগুলোতে শামুক-ঝিনুকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, কাপড়, রোদচশমা, আচার, প্রসাধনী, চা-কফি, ভাজা মাছসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ দোকানই ভ্যানের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভ্যানের নিচে চারটি চাকা লাগানো রয়েছে। দোকানিদের ভাষ্য, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দ্রুত স্থান পরিবর্তনের সুবিধার জন্য এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গেল শনিবার রাতেও কলাতলী সৈকত ও সিগাল হোটেলসংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরে নতুন করে বেশ কিছু দোকান বসানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। ওই উচ্ছেদ কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে উচ্ছেদ হওয়া কিছু ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। আদালত প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। রিটের জবাব দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সৈকত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আদালতের রিট নিষ্পত্তির আগেই যদি দখলদারেরা আবারও বালিয়াড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে, তাহলে উচ্ছেদ অভিযানের সুফল কতটা টেকসই হবে?

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram