

মজিবর রহমান, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ৭ দিনের ব্যবধানে আবারো জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের পৃথক স্থান থেকে আঃ রশীদ (৩৭) ও মোঃ সাগর (২৮) নামের দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ইউসুফ পেয়াদা নামে এক সুপারি ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছে। নিহত দুই সন্তানের জনক কৃষক আঃ রশীদ ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদ এর ছেলে। এক সন্তানের জনক মোঃ সাগর একই গ্রামের নুর জামান কালুর ছেলে। নিখোঁজ ইউসুফ পেয়াদা ওই গ্রামের আঃ সাওার পেয়াদার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের আঃ রশীদ ও মোঃ সাগর এবং ইউসুফ শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ হন। রবিবার সকালে স্থানীয় নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি মক্তবের বারান্দায় তার মরদেহ পাওয়া যায় এবং সাগর একইদিন সকালে সপরিবারে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মরদেহ ঘরের পাশে ফেলে রেখে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা নিহত সাগরের ভাইকে মুঠোফোন মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার বিষয়টি জানান। এছাড়া নিখোঁজ ইউসুফ পেয়াদার কোন সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয়দের দাবী খুনীরা ম্যাগনেটিক পিলার সংগ্রহের জন্য রশীদ ও সাগরকে ঘর থেকে ফোন করে নিয়ে যায়। পিলারের ঘটনায় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে পারে।
নিহত আঃ রশীদ এর স্ত্রী ময়না গণমাধ্যমকে জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা ফোনে তার স্বামী রশীদকে ডেকে নিয়ে যায়।
নিহতের ভাই রাজু জানান, দুর্বৃত্তরা রাত একটার সময় আমাকে ফোন করে জানান, তোর ভাইয়ের মরদেহ ঘরের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের পর খুনের প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মে উপজেলার ফুলঝুরি ও পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামে মুগরী এবং কাপড়ের ব্যবসায়ী কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে আবারো জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটলো। খুনের এ ঘটনায় উপজেলা ব্যাপী আতংক ও চঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
