

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় একটি অবৈধ ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আজ রবিবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে কেয়ার ইটভাটার দুইটি ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযানে অংশ নেন।
এসময় ইটভাটা মালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া কাঁচা ইট পানিতে ভিজিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠি এলাকায় অবৈধভাবে 'কেয়ার' নামের একটি ইটভাটা নির্মাণ করা হয়। বরিশাল জেলা এনএসআই’র গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা রোববার দুপুরে সেখানে অভিযান চালায়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. মেহেদী হাসানকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(খ) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ১৫(খ) অনুযায়ী এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না। এছাড়া ভাটাটিতে ব্যবহৃত দুটি অবৈধ ড্রাম চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত কাঁচা ইট পানি দিয়ে নষ্ট করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন ড্রাম চিমনি ব্যবহার, অবৈধভাবে স-মিল স্থাপন করে কাঠ পোড়ানো, অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভূমি ব্যবহার এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে ইট প্রস্তুতের মাধ্যমে ইটভাটাটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) কামরুন্নাহার তামান্না জানান, অবৈধ ও ড্রাম চিমনির ইটভাটার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

