

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্ক ছড়ানো সন্দেহজনক হামের প্রাদুর্ভাব অবশেষে স্তিমিত হয়ে আসতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নিবিড় তদারকি, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি এবং মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণার ফলে পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরীসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬ জন নতুন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ মে ১৮ জন, ১৪ মে ১১ জন এবং ১৫ মে ১৭ জন নতুন করে ভর্তি হন। অথচ গত এপ্রিল মাসে সংক্রমণের ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি। সে সময় একদিনেই শুধু জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ জন পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তির রেকর্ড ছিল। সংক্রমণের এই ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা চিকিৎসকদের মধ্যে আশার আলো জাগাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৮ জনে। তবে আশার বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে জেলা সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে। ইতিমধ্যে সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ওইসব এলাকায় টিকাদান শেষ হয়েছে বর্তমানে জেলার গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ১ হাজার ৮৯৭ জনকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ মে পর্যন্ত ২ লাখ ৬৯২ জনকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা সব হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ৯৯ শতাংশ। এছাড়া বর্তমানে জেলাজুড়ে আরও ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ ডোজ ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে, ফলে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন ছেলে এবং ১০ জন মেয়ে। আগের আক্রান্তদের একটি বড় অংশই দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই শিশু এবং তাদের বয়স ৯ মাসেরও কম। রোগ নিশ্চিত করার জন্য এ পর্যন্ত ২০৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি (পজেটিভ) পাওয়া গেছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দ্রুত টিকাদানের ফলে নিয়ন্ত্রণে এসেছে সন্দেহজনক হাম। যেখানে আগে হাসপাতালে ১০-এর বেশি রোগী ও থাকতো, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হলেও বর্তমানে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

