ঢাকা
৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:২৬
logo
প্রকাশিত : মে ৩, ২০২৬

নিয়োগে আত্মীয় ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সালাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়েছেন দুবার। এর পরও তাকে নিয়োগ দেয়নি রাবি কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ পেয়েছেন মেধা তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থজন।
এমন অনিয়ম দেখে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলের নথিতে সই করেননি। তবু সদ্যঃসাবেক উপাচার্য সালেহ্‌ হাসান নকীব নিয়োগটি বৈধ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

সমকালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু এই একটি নিয়োগ নয়, সালেহ্‌ হাসান নকীব যে ৫৫৭ দিন উপাচার্য ছিলেন, সেই সময়ে ১৫টি সিন্ডিকেট বৈঠকের মাধ্যমে অন্তত ৪৭৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর অধিকাংশ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ উঠেছে। তার সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫৪ জন শিক্ষক, ছয় চিকিৎসক, তিন কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ৩১৫ জন।

এর আগে এত অল্প সময় দায়িত্বে থেকে কোনো উপাচার্য এত বেশি জনবল নিয়োগ দিতে পারেননি।
সদ্যঃসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নকীব দেড় বছরের মেয়াদে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হচ্ছে- এইচএসসি পাস দুজনকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া। পছন্দের লোকের সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড তৈরি করে এ নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিজের শ্বশুরকে তিনি ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন, যা নিয়েও তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগে একটি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল এনে কৌশলে লিখিত পরীক্ষা চালু করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে উপাচার্য হয়ে সালেহ্‌ হাসান নকীব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণে নামেন। তিনি যাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয় জামায়াতপন্থী একাধিক চিকিৎসক। জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের এক ‘পৃষ্ঠপোষক’কেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নিয়োগকাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। তিনি তার প্রথম মেয়াদের চার বছরে ৫৯৫ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ২৪৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন।

শিক্ষক নিয়োগের জন্য উপাচার্যের চিঠি
অধ্যাপক নকীব উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে-বিভাগে চিঠি পাঠান। এর আগে কোনো উপাচার্যকে এমন কাজ করতে দেখা যায়নি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে কোনো কোনো বিভাগে দুই থেকে তিনবার চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ৩০ বছর ধরে এখানে শিক্ষকতা করছি। এ সময়ের মধ্যে অনেক উপাচার্যকে দেখেছি। তবে নকীব স্যার ছাড়া কোনো উপাচার্যকে এখন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিভাগে চিঠি ইস্যু করতে দেখিনি।

স্বজন নিয়োগ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সম্প্রতি পাঁচ শিক্ষক নিয়োগ পান। তাদের একজন ড. মুর্শিদা খাতুন। তিনি ফিশারিজ বিভাগের জামায়াতপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষক অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেনের স্ত্রী। চল্লিশোর্ধ্ব এই শিক্ষিকা এর আগে স্বনামধন্য কোনো পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেননি।

জানতে চাইলে ড. মুর্শিদা বলেন, আমি পাবলিক পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করেছিলাম। ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর আমি প্রথম ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলাম।

এক পদের বিপরীতে ১০ জন
গত ১৫ অক্টোবর ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগে একটি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৯টি অতিরিক্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী।

ইউজিসি অনুমোদিত ওই বিভাগে শূন্য পদ রয়েছে একটি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২০তম ও ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় মাধ্যমে এই বিভাগে ৯টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। তবে নতুন পদগুলো ইউজিসি এখনো অনুমোদন দেয়নি। ইউজিসির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা না করেই সব পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। পরে সমকালে ‘একটি শূন্য পদে ১০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে নিয়োগটি আটকে যায়।

ডিনের ভাইকে নিতে নীতিমালা বদল
চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় গত বছরের মে মাসে। বিজ্ঞপ্তিতে দুই বছরমেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির শর্ত যুক্ত করা হয়। এ শর্তে রাবি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে চাকরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কারণ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয় এক বছরমেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলীর ভাই এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। পরে তিনি বিশ্বভারতী থেকে শিল্পকলার ইতিহাসের ওপর দুই বছরের মাস্টার্স করেন। তাঁকে সুযোগ দিতেই এ ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়। সমকালে ‘ডিনের ভাইকে নিয়োগ দিতে শর্ত পরিবর্তন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

তালিকায় পেছনে থাকা শিক্ষার্থীকে নিয়োগ
উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে ভাইভা বোর্ডের সুপারিশ করা দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় চতুর্থ স্থানের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। অনিয়ম বুঝতে পেরে ভাইভা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল মেধা তালিকার চূড়ান্ত ফলে সই করেননি। এমন জালিয়াতির পরও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগটি অনুমোদন দেয়। এ নিয়োগ কার্যক্রম গত বছর সম্পন্ন হয়।

বাদ পড়া নিয়োগপ্রত্যাশী প্রার্থীর নাম এ সালাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে ২০০৮ সালে স্নাতক ও ২০০৯ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এমফিল এবং ২০১৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ভালো ফলের স্বীকৃতিস্বরূপ দুটি স্বর্ণ পদকও পান। নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি গত ২৪ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলে ই-মেইলযোগে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে কথা হলে এ সালাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিক যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে কম যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। মেধার ভিত্তিতে তালিকা করেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা স্পষ্টই বৈষম্য, অন্যায় ও বড় ধরনের জালিয়াতি। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সই ছাড়াই সিন্ডিকেটে নিয়োগটি পাস করেছে। নতুন প্রশাসন এই বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে আমি আইনের সহায়তা নেব।

কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি
অধ্যাপক নকীব প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরে অনুসন্ধান কাম তথ্য কর্মকর্তা পদে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘পৃষ্ঠপোষক’ রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাশেদ রাজনকে। গত বছরের ৩ মার্চ তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাশেদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় ২ দশমিক ৭৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। একই বিভাগ থেকে তিনি ২০২০ সালে ৩ দশমিক ০৭ পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এদিকে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারে মোমেন খন্দকার অপি নামে এক শিক্ষার্থীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে সহকারী প্রগ্রামার হিসেবে নিয়োগ দেন অধ্যাপক নকীব। অর্থাৎ, এইচএসসি পাসের সনদ দিয়ে তিনি প্রথম শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ পান।

অথচ দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চাকরি পেতে হলে তাকে অবশ্যই স্নাতক পাস করতে হবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগ হওয়ায় সেটি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।

সাবেক উপাচার্য নকীব একই পদে শরিফুল ইসলাম নামে আরেকজনকে নিয়োগ দেন। তিনিও নিয়োগের সময় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছিলেন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত সনদ দেখাতে পারেননি। তাই, কয়েক মাস পর তাঁর চাকরি বাতিল হয়ে যায়।

এদিকে, ছয়জন চিকিৎসককে অ্যাডহক ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে একাধিক চিকিৎসক ‘জামায়াতপন্থী’ হিসেবে পরিচিত। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই তড়িঘড়ি করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে প্রথমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদনকারীর মধ্য থেকে যোগ্যদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে সিলেকশন কমিটি যাদের মনোনীত বা যোগ্য বলে বিবেচনা করে, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে নিয়োগের যে বিধান রয়েছে, সেটিকে বিগত প্রশাসন কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেডিক্যাল সেন্টারে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু সেখানেও দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে, যাদের অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামীর মতাদর্শী। ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগে কাজ করেছেন, এমন অনেককেই এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নাট্যকলায় আর্থিক লেনদেন
গত ১৫ সেপ্টেম্বর নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন রাহাত ইসলাম হৃদয়। তবে তিনি মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হননি। এর পরই তিনি চাকরিতে অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে উপাচার্য নকীবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে বিভাগের সভাপতি মীর মেহবুব আলমের সঙ্গে তার নিয়োগ-সংক্রান্ত আড়াই মিনিটের একটি ফোনালাপের রেকর্ড সংযুক্ত করেন। রেকর্ডটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হলে নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হয়।

এই ফোনালাপে শোনা যায়, চাকরিপ্রার্থীকে রাজনৈতিক যোগাযোগে উৎসাহ, আর্থিক বা অনৈতিক বিনিময়ের ইঙ্গিত দেওয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর লেখা যাচাই করে সুবিধা দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেন বিভাগের সভাপতি। তবে, ফোনালাপটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন সভাপতি মীর মেহবুব আলম। পরে অবশ্য ফরেনসিক পরীক্ষায় রেকর্ডটির সত্যতা পাওয়া যায়। তার পরও প্রশাসন তিনজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

কর্মচারী নিয়োগে দলীয় প্রার্থী অগ্রাধিকার
নকীব প্রশাসন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ৩১৫ জনকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ দেয়। দৈনিক ৭৫০ টাকা হারে বেতন-ভাতা পাওয়া এসব কর্মচারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন করা হয়। ‘জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ’-এর বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শ্বশুরকে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক
উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যেই ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ৫৩৫তম সিন্ডিকেটের সভায় নিজের শ্বশুর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এ কে এম আজহারুল ইসলামকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন অধ্যাপক নকীব। এই নিয়োগ নিয়ে সেই সময় বেশ সমালোচনা হয়।

কারা কী বলছেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, নিয়োগ বাণিজ্য করে সালেহ্ হাসান নকীব অন্তত শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে যুক্তদের। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতের মতাদর্শীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ভবনকে তিনি ‘নিয়োগের কারখানা’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ফার্মাসি বিভাগের অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবী বা বিএনপির কাউকে নয়, বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫৪ শিক্ষককের মধ্যে বিএনপিপন্থি বা নিরপেক্ষ শিক্ষকদের সংখ্যা একেবারেই কম, ১০ শতাংশও হবে না। মূলত একটি বিশেষ দলকে খুশি করতে এমনটা করা হয়েছে।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শুধু নকীব স্যারকে দায়ী করা হচ্ছে, কিন্তু নিয়োগ বোর্ডে আরো সদস্য থাকেন। প্রশাসন আমাদের বলেছিল, তারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে হাত দেবে না। কিন্তু বর্তমান উপ-উপাচার্য মাঈনউদ্দিন স্যার তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনী থেকে লোক এনে চাকরি দিয়েছেন। তাদের যোগ্যতা কী? এই যে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে, এটা নিয়ে আমার যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এই নিয়োগগুলো কীসের ভিত্তিতে হয়েছে?

জানতে চাইলে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীব দাবি করেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। কোথাও কোনো দুর্নীতি ও সুপারিশকে প্রশ্রয় দিইনি। অভিযোগ আসতেই পারে, এগুলো মিথ্যা কথা। শ্বশুরকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

উপ-উপাচার্য ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন বলেন, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে নেওয়া হয়নি। আমি এর বাইরে আর বেশি কিছু বলব না।

এসব নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু নিয়োগে কোনো রকম নিয়মনীতি মানা হয়নি। রেজিস্ট্রারকে এড়িয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি সরাসরি অনেক নিয়োগ দিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা চেয়েছিলাম প্রতিটি নিয়োগ সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই মেধা বিবেচনায় নিয়োগ হয়নি। এসব বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সুত্র: কালের কন্ঠ

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram