

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারসহ বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির ফলে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরের নিচু এলাকার ধানক্ষেতগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে অকাল বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে হাজার হাজার কৃষকের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের পানিতে অনেক হাওরের পাকা ধান ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। জলমগ্ন অবস্থায় ধান কাটতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমিকরা। এর ওপর গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। একদিকে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে শ্রমিকের অভাবে মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেখার হাওর, নাইন্দার হাওর, কানলার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় জলাবদ্ধতা এবং শ্রমিক সংকটে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
নিয়মানুযায়ী ধান ৮০ শতাংশ পাকলে কাটার কথা থাকলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অনেক কৃষক আধাপাকা বা কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ধান না কাটলে বাঁধ ভেঙে পুরো ফসল তলিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কাঁচা ধান কাটলে ফলন কম হওয়া এবং মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও জীবন বাঁচানোর তাগিদে তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ধান কাটার জন্য 'কম্বাইন হারভেস্টার' ব্যবহারের কথা থাকলেও হাওরের তলানিতে জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। যন্ত্রগুলো কাদা ও পানিতে নামতে পারছে না। ফলে পুরোনো পদ্ধতিতে হাতে ধান কাটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো এবং মাড়াই করার কাজও স্থবির হয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠান ও খলা বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকায় মাড়াই করা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল রক্ষা বাঁধগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। অনেক জায়গায় বাঁধের ভেতর দিয়ে পানি চুইয়ে ঢোকার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের সামনে তা কতটা টিকবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা বিরাজ করছে। কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত হাওর রক্ষা বাঁধ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইসগেট না থাকায় উজানের ঢল সহজেই হাওরে ঢুকে পড়ছে।
সব মিলিয়ে, বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাওরবাসীর। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষকের স্বপ্ন বানের জলে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কৃষকরা এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

