

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় অতিরিক্ত ওজন বহনকারী বালুবাহী ডাম্পারের লাগামহীন চলাচলে উপজেলার একটি জণগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সড়কটির সংস্কার কাজে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফার্শিপাড়া থেকে রাঙ্গামাটি প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা কাঁচা সড়কের রূপ নিয়েছে। যার ফলে ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন এবং জরুরী সেবাদানকারী গাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। এছাড়াও বালুবাহী ট্রাক চলাচলের সময় সৃষ্ট ধুলাবালিতে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। দোকানপাট, বসতবাড়ি এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ধুলার আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম সড়কটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার আত্রাই নদী থেকে মালিকাধীন একটি বালুমহাল প্রতিদিন কয়েকশত গাড়ি বালু ডাম্পার যোগে নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলাসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলায় বিক্রয় করে আসছে। নদী থেকে অবৈধ ডাম্পার দিয়ে বালু নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করছেন প্রভাবশালী চক্রটি। আর এ রাস্তার ওপরে দিয়ে বালুর গাড়িগুলো নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮টন ওজনের গাড়ি চলাচল করার কথা থাকলেও অবাধে ৩০-৫০ টন ওজনে ডাম্পার ট্রাক চলছে। সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের নিরোব ভুমিকায় দিনদিন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বালুমহাল ইজারা ব্যবসার সহিত জড়িত সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালুবাহী ট্রাকগুলো নির্ধারিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজন বহন করছে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে এই অনিয়ম দিন দিন চরম আকারে বেড়ে চলেছে। নতুন নির্মিত সড়কও অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ছে, ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তখন কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল—তা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অনেক সময় যানবাহন উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম জানান, আমরা অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছি। আশা করছি বালু ব্যবসায়ীরা নির্দেশনা মেনে কাজ করবেন।
নওগাঁ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা জানান, সড়ক দ্রুত নষ্টের প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ওজন নিয়ে যানবাহন চলাচল। দ্রুত ওভারলোড ও অবৈধ ডাম্পার চলাচলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

