ঢাকা
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:০৫
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৯, ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ: পর্যটনের আড়ালে ইয়াবা পাচারের ‘সেফ রুট’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার পর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, শঙ্কা বাড়ছে মাদক পাচার নিয়ে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, সড়কপথের কড়াকড়ি এড়াতে মাদক কারবারিরা এখন এই রেলপথকে ইয়াবা ও আইস (ক্রিস্টাল মেথ) পাচারের জন্য ‘নিরাপদ রুট’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সময় ফেরিঘাট কিংবা হাইওয়ের বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। কিন্তু ট্রেনে একসঙ্গে কয়েকশ যাত্রী থাকায় এবং প্রতিটি ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশির স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় পাচারকারীরা এটিকে সহজ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশেষ করে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার পর যাত্রীবেশে মাদক বহন করে চট্টগ্রাম,রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক কারবারিরা এখন আর আগের মতো শরীরে ইয়াবা বহন করছে না। ট্রেনের টয়লেটের ফলস সিলিং, সিটের নিচে ‘বেওয়ারিশ’ ব্যাগ কিংবা খাবারের আড়ালে এসব মাদক বহন করা হচ্ছে।
এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল ভ্যানও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ট্রেনের ভেতরে নেটওয়ার্ক তৈরি করে পাচার চালানো হচ্ছে।

রেলওয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বড় চালান উদ্ধার করছি। তবে প্রতিদিনের বিশাল যাত্রীবাহিনীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ক্যান করা বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা এবং স্টেশনের খোলা প্রবেশপথগুলো মাদক কারবারিদের সুযোগ দিচ্ছে।

মাদক ও নেশা নিরোধ সংস্থাগুলোর মতে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ায় পর্যটকের ছদ্মবেশে মাদক বহন সহজ হয়ে গেছে। তারা বলছে, বিমানবন্দরের মতো কঠোর স্ক্যানিং ও ডগ স্কোয়াড না থাকলে এই রেলপথটি অচিরেই মাদকের ‘মহাসড়কে’ পরিণত হতে পারে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা এ রুটে পাচার রোধে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন- ১. কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম স্টেশনে আধুনিক লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন। ২. ট্রেনে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি। ৩. নিয়মিত ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি নিশ্চিত করা।

রেলপথ দেশের পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, মাদকের এই অনুপ্রবেশ সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram