

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার একটি দল, ওসি (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে স্থানীয় নুরুল হোসাইনের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামার থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নুরুল হোসাইন কৌশলে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী—টেকনাফ থানার এফআইআর নং-২৪, তারিখ: ১০ এপ্রিল ২০২৬; জি আর নং-২৬৩; ধারা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ)/৩৮/৪১। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, নুরুল হোসাইনসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র ঘটনাটির ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, একই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত কথিত মাদক কারবারি ‘ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আজম সরকারের পোল্ট্রি খামার থেকেই এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে উখিয়া সার্কেল পুলিশ, টেকনাফ থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলোর অভিযোগ, প্রকৃত মালিক ও প্রভাবশালী জড়িতদের আড়াল করতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে খামারের শ্রমিকদের আসামি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে হ্নীলা এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসাইন, নুরুল হুদা এবং নুরুল আবছারের নাম উল্লেখ করেছেন একাধিক সূত্র।
এ বিষয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আজম সরকারের পোল্ট্রি খামার নাকি নুরুল হোসাইনের মালিকানাধীন খামার—বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদকের এমন বিপুল পরিমাণ উদ্ধার একটি গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে আইনের ৩৬(১) ধারায় বাণিজ্যিক পরিমাণ মাদক সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তারা আরও বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হলে তা দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ঘটনাটির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

