

দিন চারেক আগে এই আতলেতিকো মাদ্রিদকেই লিগ ম্যাচে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। তার ওপর প্রতিপক্ষ আতলেতিকো টানা ৩ ম্যাচ ধরে জয়ের দেখা পাচ্ছিল না। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট ছিল কোচ হানসি ফ্লিকের দলই, ম্যাচের শুরুটাও করেছিল তেমন দাপট নিয়েই। তবে শেষমেশ শেষ হাসিটা হাসল আতলেতিকোই। ম্যাচের মাঝপথে দেখা এক লাল কার্ড সর্বনাশ করল বার্সার। ১০ জনের বার্সেলোনার বিপক্ষে ২ গোল করে প্রথম লেগেই চালকের আসনে বসে গেছে রোহিব্ল্যাঙ্কোরা।
ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনাই ভালো খেলছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ড বাঁ প্রান্ত দিয়ে বারবার বিপদ তৈরি করছিলেন। এরপর জোয়াও কানসেলোও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। তারই খেসারতটা পরে দিতে হয়েছে বার্সাকে।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির একটি ভুলে ম্যাচের মোড় বদলে যায়। আতলেতিকোর জুলিয়ানো সিমিওনে গোলের দিকে একা দৌড়ে যাচ্ছিলেন। পেছন থেকে কুবারসি তাকে ফেলে দেন। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি লাল কার্ডে পরিণত হয়। বার্সেলোনা দশ জনে নেমে যায়।
এর পরেই জুলিয়ান আলভারেজ ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠান। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার বলটি কোণা দিয়ে জালে পাঠান। আলভারেজের সেই ফ্রি কিক বার্সাকে আঘাত কমই দিয়েছে। তার চেয়ে বেশি পোড়াচ্ছিল ১০ জনে পরিণত হওয়ার বিষয়টা। সময় যত গড়াচ্ছিল, আতলেতিকো জমাট রক্ষণে লিড ধরে রাখার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছিল। তবে এরপরও বার্সা সুযোগ তৈরি করেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
এরপরই আসে কফিনে শেষ পেরেকটা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে আলেকজান্ডার শরলথ আতলেতিকোর দ্বিতীয় গোল করেন। গ্রিজমান ও রুজেরির সমন্বয়ে তৈরি সুযোগে শরলথ জেরার্ড মার্টিনকে বোকা বানিয়ে গোল করেন।
আতলেতিকোর এই জয় বেশ কয়েকটি কারণে ঐতিহাসিক। এটি ২০০৬ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে আতলেতিকোর প্রথম জয়। সিমিওনে তার ১৪ বছরের আতলেতিকো কোচিং ক্যারিয়ারে এই মাঠে প্রথমবার জিতলেন। এছাড়া নভেম্বর ২০২৫-এ ক্যাম্প ন্যু পুনরায় খোলার পর এটি বার্সেলোনার ঘরের মাঠে প্রথম হার।
২০১৫ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা বার্সেলোনাকে দ্বিতীয় লেগে অসাধারণ কামব্যাক করতে হবে। জিততে হবে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে। ২ গোলে জিতলেও সুযোগ থাকছে, তবে সেক্ষেত্রে টাইব্রেকারের লটারির মুখে পড়তে হবে।
আতলেতিকো এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠেছিল। দুবারই বার্সাকে বিদায় করেছিল দলটা, সেই দুবারই মঞ্চটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের। তবে সেই দুই আসরেই রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরেছে। এবার ইতিহাস বদলানোর সুযোগ তাদের সামনে।

