

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন বাড়িধারা সয়াবিন তেলে বিভিন্ন হাট-বাজার সয়লাব। তিতাস উপজেলার বৃহত্তর বাতাকান্দি বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে চলছে এই রমরমা ব্যবসা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামের একে আজাদ বাতাকান্দি বাজারে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের দক্ষিণ পাশে বাড়িধারা সয়াবিন তেলের কারখানা গড়ে তুলেছেন। ঢাকা থেকে ড্রাম ভর্তি তেল এনে এখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বোতলে ভরে বিএসটিআইয়ের লোগো সম্বলিত বাড়িধারা সয়াবিন তেলের স্টিকার লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে একে আজাদের নিকট বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পাইছেন কি না? জানতে চাওয়া হলে, তিনি অকপটে বলতে থাকেন হ্যাঁ অনুমোদন পেয়েছি। তবে এখনও পুরোদমে বাজারজাত করিনি, কিছু করেছিলাম দোকানিদের কাছ থেকে অভিযোগ আসে লিকেজ হয়। তাই নতুন মেশিন এনেছি পরিক্ষা নিরীক্ষা করে বাজারজাত করবো। আমি দেখে আসলাম তেল ভর্তি অনেক বোতল কার্টুন করতেছে, এই গুলো কি করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একে আজাদ বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ আমি ঢাকা চলে যাচ্ছি, একদিন আইসেন বিস্তারিত বলবো।
এদিকে বাতাকান্দি বাজারের একাধিক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাড়িধারা সয়াবিন তেলের স্টিকার ও খালি বোতল কিনে এনে এখানে বোতলে তেল ভরে স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করছে, আমাদের দোকানে নিয়ে আসছিল বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকায় আমরা রাখিনি। তবে পুরো রমজান মাস জুড়েই এই তেল বাজারজাত করছে।
সচেতন মহল বলছেন, সঠিক পথে ব্যবসা করতে কারোই আপত্তি নেই। ড্রাম ভর্তি তেল এনে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বোতলজাত করে স্টিকার লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকলে এটা এক ধরনের প্রতারণার সামিল।
বিএসটিআই কুমিল্লা অফিসের (সিএম) ইকবাল আহমেদ বলেন, আমি বাতাকান্দি বাজারে গিয়েছিলাম এবং একে আজাদকে বলে আসছি, যে আপনি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া এই তেল বাজারজাত করতে পারবেন না। এখন আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম স্টিকারের গায়ে বিএসটিআইয়ের সিল আছে। যদি এমনটা থেকে থাকে তাহলে এটা অবৈধ।
বিএসটিআই জেলা কুমিল্লা উপ-পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র তালুকদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজারে বাড়িধারা সয়াবিন তেল কোম্পানি লাইসেন্সের জন্য আমাদের এখানে আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তিতাসের দায়িত্বে থাকা আমাদের ফিল্ড অফিসার মো.ইকবাল আহমেদ (সিএম) পরিদর্শন করে বলে আসছেন তেল উৎপাদনে ১৯টি পিরামিড সম্পন্ন করতে হবে, তারপরে আমরা বোর্ড মিটিং বসে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তখন তিনি তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করতে পারবেন। এর আগে তিনি বাড়িধারা সয়াবিন তেল উৎপাদন করলে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য করতে পারবে কিন্তু বাজারজাত করতে পারবেন না। আর যদি বাজারজাত করে তাহলে সেইটা অবৈধ হবে। এ বিষয়ে আমি বাড়িধারা সয়াবিন তেল কোম্পানিকে খুব দ্রুত নোটিশ করবো।

