

সংগীতে আসার পেছনে আমার অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে, পড়তে হয়েছে বেশ বাধা-বিপত্তির মুখে, তবুও আজ আমি অনেক খুশি কারণ দেশের মানুষ আমার গান শোনে। আবার কাছের মানুষগুলো আমাকে ফোন দিয়ে বাহবা দেয়।
কথাগুলো সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক হাফিজ বাউলার, যিনি একাধারে একজন সফল কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার সুরকার হিসেবে ইতোমধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন তার স্বপ্ন ও বাস্তবতার কথা গুলো।
মিডিয়া পাড়ার জনপ্রিয় মুখ হাফিজ বাউলার পুরো নাম মোঃ হাফিজুর রহমান। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা গাইবান্ধা জেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই গান পাগল এই মানুষটি গ্রামের বিভিন্ন প্রোগ্রামসহ নিজের স্কুলে নিয়মিত গান করতেন। এবং ছোটবেলায় বাবাকে হারানো হাফিজ বাউলা গানে তার মায়ের বেশ সাপোর্ট পেয়েছিলেন।
হাফিজ বাউলার সংগীতে হাতেখড়ি হয় মাত্র সাত বছর বয়সে স্থানীয় ওস্তাদ নাড়ু বাবুর কাছে। এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতসহ তালিম নেন সংগীতের নানান বিষয়ে।
২০০৮ সালে পরানের বান্ধব শিরোনামের গান দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন হাফিজ বাউলা। প্রথম সলো এলবামে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অশান্তির মাও মরেনাই শিরোনামের একটি গান করেন তিনি। যা অডিও পড়ায় বেশ সুনাম অর্জন করে।
গায়কীর পাশাপাশি পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন হাফিজ বাউলা। এ পর্যন্ত তার কম্পোজিশনে মৌলিক গানের সংখ্যা ৪ হাজারের অধিক এবং সুর করেছেন চার শতাধিক মৌলিক গান। ও লিখেছেন শতাধিক মৌলিক গান।
হাফিজ বাউলার কন্ঠে এ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে ৩৫০টি মৌলিক গান। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি গান পেয়েছে সমানভাবে জনপ্রিয়তা। টিকটক, ফেসবুক রিলস ও ইউটিউব সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অনেক গানই রয়েছে ট্রেন্ডিংএ। বর্তমানে অপ্রকাশিত গানের তালিকায় আছে শতাধিক মৌলিক গান।
তিনি দেশের জনপ্রিয় অনেক গীতিকার সুরকারের সাথে কাজ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন হাসান মতিউর রহমান, দেলোয়ার আরজুদা সরফ, ইকরাম উদ্দিন, আর জে রুবেল, আহমেদ রব্বানী, শফিকুল ইসলাম রানা মল্লিক রাসেল, রাসেল কবির, প্লাবন কোরেশী, তানজির আহমেদ শাকিব, রাসেদুল ইসলাম চাঁদ, ডক্টর সোহেল মাসুদসহ রয়েছেন আরো অনেকে।
হাফিজ বাউলা সঙ্গীতে অবদান রাখায় এপর্যন্ত বিভিন্ন শীর্ষ সংগঠন থেকে প্রায় ২৫টির বেশি সম্মাননা ছাড়াও সম্প্রতি চ্যানেল আই সেরা লোক সঙ্গীতশিল্পী পল্লীগীতি ও মরমী ক্যাটাকরিতে চলতি বছর মনোনীত হয়েছেন।
তার কন্ঠে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, মন মাঝি, সময় খুবি কম, সুখ মেলে নাই তাতে, মন ভাঙার বিচার, দিন দিন পুরান হইয়া যাচ্ছি,আমার কইলজার পাখি রে, যাবজ্জীবন জেল, কি লাভ হইল বন্ধু তোমার, নষ্ট জীবন টারে নিয়া, কি যে ধরা খাইছি, বন্ধুর প্রেম ভিখারি, ভাবের মানুষ, জামিন দিলো না, দেহ বাড়ি ও ভুল তো মানুষেরই হয় গান গুলো অন্যতম।
তার সঙ্গীত পরিচালনায় জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, সম্প্রতি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবুর কন্ঠে-মরণ বুঝি ডাকিতাছে, সময় খুবি কম,শফি মন্ডলের কন্ঠে-মন ভাঙ্গার বিচার, আনোয়ার ফকিরের কন্ঠে-কান্দাইয়া কি পাইলি সুখ, মরিয়মের কন্ঠে-আমি মরলে দুঃখ দিবা কারে, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রাজিব শাহর কণ্ঠে-ভবনদী, রাজু মন্ডলের কন্ঠে- ভুল বোঝার মানুষ বেশি,ইকরাম উদ্দিনের কন্ঠে- আবেগে আর কাজ করে না, সহ রয়েছে বেশ কিছু গান।
জানতে চাইলে হাফিজ বাউলা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি গানের সাথে জড়িত, সংগীত আমার রক্তে মিশে আছে। আমৃত্য সংগীতের সাথে থাকতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ভালো ভালো কথা ও সুরের বাংলা গান করে যেতে চাই। বাংলা গানকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চাই, সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

