

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এর ফলে ইউনিয়নের অন্তত ৮ হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে কষ্টের ফসল রক্ষায় শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। মানববন্ধন শেষে কৃষকরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসব কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য বিল্লাল হোসেন অপু, স্থানীয় কৃষক এম আরাফাত হোসেন, ফজলে রাব্বি, নাজুম হাসান, গোলাম মৌওলা, রবিউল ইসলাম, আলি রাজ ও মোঃ সোনাইমানসহ স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহন করেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, মাছ চাষের জন্য ডেমা ইউনিয়ন ঘীরে অকেনগুলো স্লুইস গেট ও খাল-নদীর গেট দিয়ে পানি উঠাচ্ছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। যার ফলে লবণ পানিতে অনেক ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আরও ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। হতদরিদ্র কৃষকদের ধান রক্ষায় অতিদ্রুত লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানান কৃষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু`র কার্যনির্বাহী সদস্য বিল্লাল হোসেন অপু বলেন, আমার বাড়ি বাগেরহাটের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক প্রভাবশালী মানুষরা চিংড়ি চাষ করার জন্য লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নতুন করে লবণ পানি প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে, ইউনিয়নের অন্তত ৮ হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের বাঁচাতে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন কৃষকরা।
কৃষক আরাফাত হোসেন বলেন, ৫২ শতকের এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর যারা নগদ টাকায় জমি রেখে ধান চাষ করে তাদের ব্যয় আরও বেশি। এক মাসের মধ্যেই বেশিরভাগ ধান পেকে যাবে। এখন যদি লবণ পানি প্রবেশ করায়, তাহলে আমাদের মত কৃষকদের বাঁচার আর পথ থাকবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে এক লক্ষ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন কৃষকরা।
