

এস আই মল্লিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ৩নং কুশনা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই রাস্তায় দুই অর্থ বছরে পৃথক নামে বড় অংকের বরাদ্দ প্রদান এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্ট উদ্বোধনের মাত্র ৬ মাস পার হতেই মাঝ বরাবর ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজের ভূমিকা নিয়ে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুশনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের একটি নির্দিষ্ট রাস্তায় গত দুই অর্থ বছরে দুই দফায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১. ২০২৩-২৪ (২০২২-২৩) অর্থ বছর: 'বাজার মেইন রোড হইতে সৈয়দের বাড়ি পর্যন্ত' রাস্তায় ৬৫.২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২.৪৪ মিটার প্রস্থের ফ্লাট সলিং করার জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম (ফরিদ)। ২. ২০২৫-২৬ অর্থ বছর: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে 'গালিমপুর বাবুর বাড়ি হতে পিচ রাস্তা পর্যন্ত' এইচবিবি (HBB) করণের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) খাত থেকে নতুন করে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একই রাস্তার অংশ বিশেষে বারবার বরাদ্দ দেখিয়ে মূলত সরকারি অর্থের হরিলুট চালানো হচ্ছে। উক্ত রাস্তার পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি কালভার্ট স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র ৬ মাস যেতে না যেতেই কালভার্টটি মাঝ বরাবর ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ৩নং কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হওয়া এই কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও অপর্যাপ্ত রড ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, "এতো টাকা বরাদ্দের কালভার্ট এতো দ্রুত কীভাবে ভেঙে যায়? নিশ্চয়ই এখানে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে।"
এই অনিয়ম এবং কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ৩নং কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি "পরে জানাবেন" বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে বিস্তারিত বক্তব্য নিতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। তার এমন রহস্যময় নীরবতা ও ফোন এড়িয়ে চলায় দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে ছোট যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রকল্পের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
