ঢাকা
২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:২৯
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০২৬

খুলনায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হাম, ১০ জেলায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ শিশু

খুলনায় হঠাৎ হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই গায়ে ব্যথা, তীব্র জ্বর, সর্দি ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসছেন। এদিকে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানান চিকিৎসকরা।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে।

এছাড়া খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়।কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৩ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এছাড়া যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই অল্পবয়সি শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বয়স ৫ থেকে ৮ মাসের মধ্যে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় তাদের জটিলতা বেড়েছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।’

এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা সীমিত। পুরনো অবকাঠামোর কারণে খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জটিল রোগীদের জন্য এনআইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনা বিভাগেরও কোনো কোনো জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে সবগুলো জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাসপাতালে সে নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া আমাদের চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসার সাথে জড়িত অন্যদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এনআইসিইউ সংকট জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে এখনও এনআইসিইউ নেই। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত বড় জেলাগুলোতে এনআইসিইউ সাপোর্ট দিতে, যাতে রোগীর জটিলতা বাড়লে এনআইসিইউতে চিকিৎসা করানো যায়।’

এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘দ্রুত হামের ভ্যাক্সিনেশনের প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram