

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: শিল্পের কারিগর বলা হয় বাবুই পাখিকে। বাসা তৈরিতে নিপুণ দক্ষতা রয়েছে এদের। এক সময় গ্রামের তাল-খেজুর গাছে এদের বাসা প্রায়ই দেখা যেত। এখন পাখিটি বিলুপ্তির পথে। অনেকটা চঁড়ুই পাখির মত এদের দেখতে মনে হলেও বাস্তবে এরা কঠিন পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল। ঠোঁঠের ক্ষমতায় ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য মজবুত ও আরামদায়ক বাসা তৈরি করে সেখানে বসবাস করে থাকে। পাখির রাজ্যে এমন বাসা তৈরির ক্ষমতা আর কারো নেই বললে চলে।
এই পাখিটির বাসার প্রতি রয়েছে মানুষের অন্য রকম আকর্ষণ। তাই কৃত্রিম বাসা তৈরি করে অনেকে বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতে তৈরি বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে।
গত কয়েকদিন ধরে চিতলমারী সদর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাবুই পাখির বাসা বিক্রি করতে দেখা যায় অনেককে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এসব বাসা বিক্রি করছেন। বাসা কিনতে উৎসুক ক্রেতাদেরও ভিড় দেখা গেছে। অনেকে এটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন। বাসাগুলি অনেকটা বাবুই পাখির বাসার আদলে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কেনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। ঘরে শোভাবর্ধনের জন্য হাতে তৈরি এ বাসাটি কিনছেন অনেকে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. আল মামুন শেখ, সুমন শেখ জানান, তারা পার্শবর্তী পাটরপাড়া গ্রাম থেকে বাসাগুলি কিনে নিয়ে এসেছেন। চিতলমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এটি বিক্রির মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি সংসার চালান। প্রতি পিস পাখির বাসা একশ টাকা থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। এটি বিক্রিতে ক্রেতাদেরও বেশ সাড়া মিলছে বলে জানান তারা।
এলাকার পাখিপ্রেমী বাবলু মণ্ডল জানান, বাবুই পাখির এখন উপযুক্ত বাসস্থান নেই। পাশাপাশি খাদ্য সংকট রয়েছে ফলে পাখিটি দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শিকারীর হাতে মারা পড়ছে এরা। এক সময় হয়তো পাখিটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তবে এদের ব্যতিক্রম বাসা তৈরির কারণে গল্প-কবিতায় এরা বইয়ের পাতায় লেখা থাকবে। এমন হাতে তৈরি বাসা মনে করিয়ে দেয় বাবুই পাখির দক্ষতা সম্পর্কে।
