

মোঃ হারুন অর রশিদ, ডেমরা প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌসুম শুরুর আগেই ডেমরার বাজার, পাড়া মহল্লায় রসালো ফল তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে। তবে বাড়তি মুনাফা নিতে অপরিপক্ব তরমুজই বিক্রি হচ্ছে বেশি। তরমুজের দাম নিয়েও চলছে টালবাহানা। খেত থেকে পাইকাররা ঠিকা কিনলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। কৃষক আগেভাগে তরমুজের চাষাবাদ করে বাড়তি দামের আশা করছে। আর পাইকাররা (মধ্যস্বত্বভোগী) তাদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে তরমুজ খেত ক্রয় করে তার সুফল ভোগ করছেন।
রোজায় রসালো ফলটির চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় আড়তে অপরিপক্ব তরমুজ সরবরাহ করছেন ফড়িয়ারা। কম দামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব অপরিপক্ব তরমুজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন আড়তদাররা। এতে ব্যবসায়ীরা লাভ গুনলেও বাড়ি নিয়ে কাটার পর লালের বদলে তরমুজের ভেতরের রং সাদা দেখে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা।
রোজায় তরমুজের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হবে এমনটি আঁচ করতে পেরে আড়তে তরমুজ তোলেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা থেকে আড়ত থেকে তরমুজ নিয়ে আসেন ফড়িয়ারা। নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশনের বিনিময়ে আড়তদাররা এসব তরমুজ পিস হিসেব খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে একদম ছোট আকৃতির ১০০ পিস তরমুজ ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। এসব তরমুজের একেকটির ওজন তিন কেজির ওপর। মাঝারি আকৃতির তরমুজের ১০০টির দাম ২৫-৩০ হাজার। এগুলোর প্রতিটির ওজন ৬-৭ কেজি। আড়তে সবচেয়ে বড় আকৃতির ৩-৫ কেজি ওজনের তরমুজের দাম ৪০০-৬০০ টাকা। বর্তমানে কেজি প্রতি ৮০-৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ক তরমুজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারুলিয়া বাজার, ডেমরা বাজার, কোনাপাড়া, ডগাইর, রানীমহল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক তরমুজ বিক্রি করছে।
তরমুজ ক্রয় করতে ইউনুস মিয়া বলেন, একটি ছোট তরমুজ ক্রয় করে হলে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা লাগে। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা-দাদারাও কোনোদিন কেজিতে তরমুজ কিনে খায়নি। আমাকে কিনতে হচ্ছে। তাই সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকায় মৌসুমী ফল খেতে আগ্রহ হারাতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা গৃহিনী সোনালী আক্তার বলেন, আমি ৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ ক্রয় করেছি। তখন কেজি দরে তরমুজ বিক্রিতে আপত্তি জানালে ব্যবসায়ীরা আমার কাছে তরমুজ বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বাজার নজরদারির অংশহিসেবে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং নজরদারি বাড়াতে হবে।

