

মনীষ সরকার রান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলির কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মি: পাটোয়ারী। এছাড়াও তিনি ৩৩, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের প্রার্থী হিসেবে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার দু'টি আসন থেকে নির্বাচন করবেন, সাবেক এই সাংসদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আনছার আলী সরদার, সহসভাপতি আলহাজ্ব জহুরুল হক বাদশা, মাওলানা আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মান্নান মন্ডল, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল হক রেজা, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন মুক্তি, সাংগঠনিক আনোয়ার হোসেন, মোসলেম আলী ও মহাসচিবের বিশেষ সহকারী নুর মোহাম্মদ রাফি। মনোনয়নপত্র জমাদান উপলক্ষ্যে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় ডাক বাংলোয় জড় হন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার উৎসব মূখর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। আমরা নির্বাচন মুখিদল, আমরা নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচন কমিশন ও সরকার যদি বিমাতা সূলভ আচরণ করে? তখন আমরা সেই মতন দলীয় সিদ্ধান্ত নিবো। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষনার পর শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে! তার গুলিবিদ্ধ হওয়াতে অস্থিরতা ছিল। পরে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতন পত্রিকায় আগুন দেয়া হয়েছে! ছায়ানট ও উদিচিতে হামলা হয়েছে, ময়মনসিংহে সনাতন ধর্মের একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে! এ ঘটনা গুলো নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করেছে।
নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা করছি। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন। তাদের সেই আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় পার্টি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই নির্বাচনের পথে এসেছি। তবে নির্বাচনে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ভোটের মাঠে থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।
বিএনপি'র সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-"দেশের চরম ক্রান্তি লগ্নে তারেক জিয়ার আবির্ভাব রাজনীতিতে সুবাতাস সংযোজন করেছে। দেশে একটা রাজনৈতিক সমঝোতা ও সলুশন প্রয়োজন ছিল। ওনার আসায় তার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উনি হয়তোবা একাত্তুরের সকল শক্তিকে বৃহৎ শক্তিকে এক পতাকাতলে নিয়ে আসার চেষ্ঠা করতেই পারেন। এটা দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন, বিএনপি'র জন্যও প্রয়োজন এবং অন্তর্ভুক্তি মূলক নির্বাচনের জন্যও প্রয়োজন। মিঃ পাটোয়ারী বলেন, এখনো আমাদের সাথে কোন আলোচনা হয়নি। হলে আপনাদের জানাবো"। তবে সমঝোতা না হলেও জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী এখনো রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে আছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য তাদের জামিনের বিষয়ে সরকার বিবেচনা করবে বলে আমা করছি। সেই সাথে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সুদৃঢ় হবে।

