

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর থেকে সীমান্তের ৪ ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা চিলাই নদী সুরমা নদীতে মিলিত হওয়ার স্থানে নির্মিত জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দোয়ারাবাজার-শরীফপুর ব্রিজটি ৪ ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলাচল করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির একাধিক স্থানে রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সম্প্রতি নতুন করে আরও বেশ কয়েকটি অংশে রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাটাতনের ভাঙন আগের মতোই রয়ে গেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পাটাতনের ফাঁক দিয়ে কারো পা ঢুকে গেলে স্থায়ী পঙ্গুত্ব কিংবা প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগ নয়, সীমান্তসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ পথ হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেই প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী মহিবুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটি এখন চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে, এরপরও প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করছে, যে কোন সময় ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ হলেও প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ নেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মেওয়া না হলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
ভূজনা গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, উপজেলা সদরের এই ব্রিজটির বেহালবস্থা দেখার কেউ নেই। একাধিক স্থানে নীচের ছাদ ও ঢালাই ভেঙে বড় গর্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ন হলেও নিয়মিত ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল করছে। গাড়ী উঠলে ব্রিজ কাঁপে। ব্রিজটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হলেও দেখার কেউ নেই। বড় ধরণের দুর্ঘটনার পর সচেতন হয়ে তো কোন লাভ নেই। দ্রুত সংষ্কার এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেছেন, দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
এখানে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ এবং আপাতত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষের জানমাল রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ বলেছেন, ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য এডিপির বরাদ্দ হয়েছে, তবে এখনও টেন্ডার হয়নি।
