

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের অভ্যন্তরীণ জণসাধারণের চলাচলের রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বদলি জনীত কারণে রাতের আধাঁরে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বাধ্য করে দায়সারা কাজ করেছেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহরিয়ার রহমান। কাজের পরদিন হাত দিয়ে টান দিলে রাস্তার সিলকোট উঠে আসার বিষয়টি স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচার হলে অনিয়ম ঢাকতে পুনরায় রাস্তার সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ধামইরহাট পৌরসভার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার কাজ বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের খাতে আরএফকিউ এর বরাদ্দে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৯২ মিটার রাস্তার সংস্কার কাজ করা হয়। এতে মোট ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যে বরাদ্দে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মাঝ রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহরিয়ার রহমান পৌরসভার লোকজন ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চাপ সৃষ্টি করে রাতের মধ্যে রাস্তার বরাদ্দকৃত কাজটি শেষ করে বদলি জনীত কারণে উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বিদায় নেন। একটি কেজি স্কুল, একটি মসজিদসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি অফিসে যাতায়াতের জন্য বরাদ্দকৃত রাস্তার সংস্কার কাজটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজটি পৌরসভার লোকজনের ইচ্ছের বাহিরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনগড়া কাজ করতে গিয়ে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার দায়িত্বে থাকা লোকজন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলা পরিষদের রাস্তার সংস্কার কাজ দিনের বেলা হবে। যেখানে আমরা স্থানীয়রা এবং উপজেলার বিভিন্ন অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেখাশোনা করতে পারব। রাতের আঁধারে কাজ করে করে উপজেলা থেকে বরাদ্দের অর্থ নিজের পকেটে নিয়ে রাতারাতি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার মন্ডল জানান, আমাদেরকে রাতের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাপ সৃষ্টি করেন। আমরা কাজটি আমাদের মত করে শেষ করতে চাইলে তিনি বারবার আমাদের ধমক প্রদান করেন। যেখানে নওগাঁ থেকে বিটুমিন নিয়ে এসে কাজ করা হয়। বিটুমিটসহ সংস্কার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজের মতো করে করেন। তবে আমরা রাস্তার সিলকোট নতুন ভাবে সংস্কার কাজ করছি। পৌরসভার লোকজন নিয়মিত দেখভাল করছেন কাজটি ভালো ভাবে করার জন্য।
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান মিলন জানান, যেহেতু আমি ধামইরহাট উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি আমি জেনেছি, পরে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি, কাজটি চুক্তিপত্র অনুযায়ী ভালো ভাবে বুঝিয়ে নেয়ার জন্য।
