

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পিয়ন। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার থানাহাট ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক,ব মহিউসুন্নত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষকরা। বুধবার দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন ডাকা হয়।
উপজেলার ৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত দুইদিন পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বুধবারের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউনে অংশ গ্রহন করে তারা পরীক্ষা বর্জন করেন।
এদিকে সহকারী শিক্ষকগণ পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকায় স্ব স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলের কর্মচারী ও শিক্ষা অফিসের কর্মচারীদের সহায়তায় পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ক,ব মহিউসুন্নত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও থানাহাট ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পিয়ন ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে, কোনো সহকারী শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের সামনে বসে শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো.আখতারুজ্জামান রতন বলেন, সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। আমরা চাই তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হোক। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমার জবাবদিহিতার জায়গা থেকে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয় সেই দিকটাও আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এ কে এম মোখলেছুর রহমান মাসুম বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের দাবির সাথে কর্তৃপক্ষ সহমত পোষণ করলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি দিয়েছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, মাত্র দুটি স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষায় সহযোগিতা করছিলেন না, সেখানে আমরা গিয়ে ঠিক করে এসেছি বাকি স্কুলগুলিতে পরীক্ষা চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, একটি স্কুলে শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেছিলেন। আমরা সেখানে গিয়ে শিক্ষকদের পরীক্ষা নিতে বলেছি।

