

প্রাচীনকাল থেকেই নানা তরকারিতে বড়ার ব্যবহার হয়ে আসছে। বড়া যোগ হলে রান্নার স্বাদে আসে আলাদা বৈচিত্র্য। মূলত ঠাকরি কালাই দিয়ে তৈরি এই বড়া। শীতের মৌসুমে এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অনেক কারিগরই ব্যস্ত থাকেন বড়া তৈরি ও শুকানোর কাজে।
উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সেনপাড়া গ্রামে গেলে দেখা মিলবে বাড়ির আঙিনা আর রাস্তার দু’পাশে সারি সারি ঝাড়িতে শুকাতে দেওয়া বড়ার। পরিবার–পরিজন মিলে গুটি গুটি করে বড়া বানাচ্ছেন তারা। রাতে ভিজিয়ে রাখা ঠাকরি কালাই ভোরে উঠে ঢেঁকিতে গুড়ো করে শুরু হয় বড়া তৈরির কাজ। সারাদিন রোদে শুকিয়ে কেউ নিজে হাটবাজারে বিক্রি করেন, কেউ আবার পাইকারি দরে সরবরাহ করেন। এতে পরিবারপ্রতি দৈনিক আয় হয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।
কারিগর বাকি সেন বলেন, আগের মতো লাভ আর হচ্ছে না। কালাইয়ের দাম অনেক বেড়েছে। অনেকেই তাই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমি অন্য কাজ শিখিনি, তাই এটাতেই টিকে আছি।
কারিগর পূর্ণিমা রানী জানান, বড়া তৈরি করেই চলছে তার সংসার। এই আয়ের ওপরেই ছেলে–মেয়ের পড়াশোনা, শ্বশুর–শাশুড়ির দেখাশোনা—সব করি, বলেন তিনি।
সেনপাড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে খালিজমিতে বাঁশ আর টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী শুকানোর স্ট্যান্ড। সকাল থেকে রোদে দেওয়া বড়া বিকেলের মধ্যেই শুকিয়ে যায়; এরপর আরেক দফা শুকানোর জন্য মাটির ওপর টিনে ছড়িয়ে রাখা হয়। রোদ ভালো থাকলে এক দিনেই বড়া প্রস্তুত হয়ে যায়। প্রতিকেজি বড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।
স্থানীয় কারিগরদের মতে, শীতকালে চাহিদা বেশি থাকায় অনেকেই বড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পেলে এই পেশাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।
