

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাসের বাতাকান্দি-রায়পুর সড়কের দক্ষিণ আকালিয়া খালের উপর নির্মাণাধীন সেততেু নকশা বহির্ভূত কাজ করায় ত্রুটিপূর্ণ সেতুর স্থানটি ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন প্রকৌশলী। নকশায় ত্রুটি এবং বিম ঢালাইয়ে ভুল ধরা পড়ার কারণে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে অর্ধসমাপ্ত সেতুর সেই অংশটি। এতে করে নির্মাণাধীন সেতুটির নির্মাণ কাজ আরও বিলম্বিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে এই সড়কে যাতায়াতকারী দুই উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বাতাকান্দি-রায়পুর সড়কের দক্ষিণ আকালিয়া খালের উপর ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দে ২৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.১০ মিটার প্রস্থ একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। খালের উপর অধর্শত বছরের পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স আর আর কনষ্ট্রাকশন। উক্ত সময়ের মধ্যে নির্মাণাধীন সেতুটির ৬০ ভাগ শেষ হয়েছিল। তবে এর মধ্যে ঠিকাদার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিল তুলে কাজ ফেলে চলে যান। এরপর থেকে সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে নির্মাণাধীন সেতুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণাধীন সেতুটির গ্রাডার যন্ত্রের সাহায্যে ভাঙ্গছেন। পাশেই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। নির্মাণ কাজ ধীরগতির হওয়ায় সেতুর রডে মরিচা পড়ে গেছে। যে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভাঙ্গা হচ্ছে সেখানে একই সময় সেতুর বিম ও ছাদ ঢালাই করার কথা থাকলেও বিম আগে ঢালাই করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ সেতুর এই অংশটি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।
বাতাকান্দি বাজারে আসা ক্রেতা হিসেবে আসা মাছিমপুর গ্রামের কাশেম বলেন, এত ছোট খালে এত বড় সেতুর দরকার ছিল না। এটা ভালো কয়েকদিন পরপর সেতুটি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।
সিএনজি চালক রফিক বলেন, কয়েক বছর ধরেই দেখছি সেতুর কাজ হচ্ছে, এখন আবার ভাঙ্গতেছে। এখানে এতো বড় সেতুর দরকার ছিলো না।
উপজেলার কালাইগোবিন্দপুর মালেক এবং উলুকান্দির আবু তাহের বলেন, সেতু নির্মাণের সময় খাল ভরাট করে রাস্তা বানানোয় খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর যাবৎ বাতাকান্দি, উলুকান্দি, দক্ষিণ আকালিয়া ও কালাইগোবিন্দপুর এলাকায় পানির অভাবে ফসল উৎপাদন কমে গেছে।
মেসার্স আর আর কনষ্ট্রাকশনের সহকারী ঠিকাদার জিএম আনিছুর রহমান জুয়েল জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে। বর্তমানে ৯জন সাইডে কাজ করছে। আগামী শুক্রবার থেকে তাদের সাথে আরো ১০জন শ্রমিক যোগ দিবেন। ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভাঙ্গা হলে একসাথে আমরা বিম ও ছাদ ঢালাই দেব।
এলজিইডির তিতাস উপজেলার প্রকৌশলী মো. খোয়াজুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণ কাজের সময় নির্দেশনা অমান্য করে শুধু সেতুর বিম ঢালাই দেয়। নিয়ম হচ্ছে বিম ও ছাদ একসঙ্গে ঢালাই দেওয়া। কিন্তু শুধু বিম ঢালাই দেওয়ায় সেতুর নকশার ত্রুটি ধরা পড়ে এবং ত্রুটিপূর্ণ স্থান পর্যন্ত ভাঙ্গা হচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। প্রধান ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ না হলেও তার প্রতিনিধি সহকারী ঠিকাদার জুয়েলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
