ঢাকা
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:০২
logo
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫

এখনো কুপির আলোতে জীবন কাটছে বৃদ্ধা লিলিমনের

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ‘গ্রাম হবে শহর, পল্লী হবে সমৃদ্ধ’ স্লোগানে ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাতে সরকার যখন বদ্ধপরিকর, তখন জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার সড়াইল মহল্লার স্বামী পরিত্যক্তা বৃদ্ধা লিলিমন বিবি গত দুই দশক ধরে বিদ্যুৎবিহীন কুপির আলোতে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুৎবিহীন এই ভ্যাবসা গরমে অতি কষ্টকে সঙ্গী করে তিনি জীবন অতিবাহিত করছেন। ভাঙা টিনের খুপড়ি ঘরে একা বসবাস করা এই নারী দীর্ঘ ২২ বছরেও বাড়ীতে বিদ্যুতের আলোর মুখ দেখেননি। কখনও পাশেই একটি হিমাগারে আলু বাছাইয়ের কাজ আবার অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে দৈনিক মাত্র ১৫০-২০০ টাকা আয় করে কোনোমতে খাবার জোগাড় করে জীবন অতিবাহিত করছেন লিলিমন বেওয়া। আর রাতে আশ্রয় নেন কুপির ক্ষীণ আলোতে।

লিলিমনের বসবাসের পরিবেশ অত্যন্ত করুণ। ভাঙা টিনের ছোট্ট একটি ঘরে প্রচন্ড গরমে দিন-রাত পার করাই যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাতের বেলায় আশপাশের পরিবেশও থাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন। সমাজের বিত্তবান মানুষরাও তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি কখনও। এমনকি প্রশাসনেরও নজরে আসেনি লিলিমনের জীবনকাহিনী।

সড়াইল মহল্লার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, ‘লিলিমন খুব কষ্টে থাকে এই ঘরে। প্রচন্ড গরমে একদম থাকতে পারে না তিনি। মাঝে-মধ্যে আমাদেরসহ আশপাশের অনেকের বাড়িতে এসে ফ্যানের নিচে বসে একটু বিশ্রাম নিয়ে যায়। তাতে কি আর একজন বৃদ্ধার জীবন চলে? সরকার যদি তার বাড়ীতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিতো, তাহলে সে অন্তত শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাতে পারতো।

প্রতিবেশী হানিফ মন্ডল বলেন, ‘লিলিমন খুবই গরীব। বৃদ্ধ বয়সে খেটেই দিন পার করছেন। পাশে একটা হিমাগারে আলু বাছাইয়ের কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে খেয়ে-পড়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। যাই হউক সবার সহযোগিতায় তার অন্তত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা দরকার।’

আরেক প্রতিবেশী হাবিবুল হোসেন বলেন, ‘একজন নারী হয়ে একা বসবাস করে, সেটাই কষ্টকর। তার উপর বিদ্যুৎ নেই, এই গরমে ফ্যানের বাতাসেই থাকা দায়, তার উপর লিলিমনের ঘরে বিদ্যুৎ নেই। ওনার জন্য কিছু একটা করা দরকার।

কষ্টের কথা বলতে বলতে কেঁদে ওঠে লিলিমন বেওয়া। তিনি বলেন, ‘বিগত ২২ বছর ধরে অন্ধকারে এই ঘরে বসবাস করে আসছি। পেটের খুদা মেটানোর সামর্থ্য যেখানে নেই, সেখানে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ নিবো কিভাবে। খেয়ে আছি না না খেয়ে আছি কেউ কোনোদিন খোঁজও নেয়নি। বিদ্যুৎ দিবে কে? এই পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। কাকে বলবো এসব কষ্টের কথা, তার চেয়ে নীরবেই কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছি।’

কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জুবায়ের আলী বলেন, ‘বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। লিলিমন কখনই বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেননি। করলে সবার আগে তার বাড়িতেই সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার তাগিদে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুযোগ নেই।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান সাংবাদিকদের জানান, ‘লিলিমনের বিষয়ে সবেমাত্র অবগত। তার ঘরে যে বিদ্যুৎ নেই, তা দুঃখজনক। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।’

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram