

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাবার ছুরিকাঘাতে ছেলে খুন হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মায়ানী ঘড়ি মার্কেট এলাকার শেখ আকনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ওই ছেলের নাম মো. সাহেদ (২২)। সাহেদ নুরুজ্জামান ও কামরুজ্জাহান বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। সাহেদ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
সাহেদের মা কামরুজ্জাহান বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নুরুজ্জামান সৌদি আরব থাকা অবস্থায় সিলেট জেলার এক মহিলার সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ওই মহিলাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবরটি শুনে বুধবার সন্ধ্যায় শহর থেকে বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করতে গেলে সাথে সাথে আমার স্বামী ছেলের বুকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামী সৌদি আরব থেকে আসার পর থেকে সবসময় আমাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।’
নিহত মো. সাহেদের খালা নুর জাহান বেগম বলেন, ‘আমার বোন জামাই নুরুজ্জামান মঙ্গলবার দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার বিকেলে এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে ওই বাড়িতে যাই। ওইখানে যাওয়ার পরপরই নুরুজ্জামান আমার বোন কামরুজ্জাহানের মাথার চুলের মুঠি ধরে ফেলে। তখন আমার বোনের ছেলে সাহেদ মাকে বাঁচাতে গেলে তার বুকে ছুরি মেরে দেয় বাবা নুরুজ্জামান। সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আর্যরাজ দত্ত বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই সাহেদের মৃত্যু হয়েছে। তার বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।’
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘মায়ানী এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে পিতা-পুত্রের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার সাথে তর্কে জড়ালে বাবা ধারালো ছুরি দিয়ে ছেলেকে আঘাত করে। পরিবারের সদস্যরা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।’

