

পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বা উর্বরতা নিয়ে আগ্রহ এবং উদ্বেগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষের উর্বরতা-সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগে শত কোটি ভিউ হওয়ার ঘটনা সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অনেক পরামর্শের পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামির ২৮ বছর বয়সী সাইমন এমনই একজন, যিনি ভবিষ্যতে নিজের প্রজননক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদিন নানা ধরনের রুটিন অনুসরণ করেন। প্রতিদিন সকালে তিনি স্টিম বাথ নেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, সূর্যালোক গ্রহণ করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ফিল্টার করা পানি পান করেন এবং সম্ভাব্য টক্সিন এড়াতে তুলার বক্সার ব্যবহার করেন।
অণ্ডকোষকে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করতে তিনি বরফের প্যাকও ব্যবহার করেন। তার বিশ্বাস, এসব অভ্যাস শুক্রাণুর সংখ্যা ও কার্যকারিতা উন্নত রাখতে সহায়তা করে।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান তথ্য বলছে, এসব পদ্ধতি শুক্রাণুর মান বা সংখ্যা বাড়ায় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সাইমন জানান, তার এখনই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নেই এবং কোনো সঙ্গীও নেই। তবুও ভবিষ্যতের উর্বরতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি এসব অভ্যাস গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, কম উর্বরতা টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি সতর্ক থাকতে চান।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। এন্ডোক্রাইন বা হরমোনজনিত সমস্যা শুক্রাণুর সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু কম উর্বরতা নিজে থেকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বা এন্ডোক্রাইন কার্যকারিতা নষ্ট করে না।
বিশ্বজুড়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুরুষ বীর্য পরীক্ষা করাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি), স্টেরয়েডের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টক্সিন নিয়ে উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয় উর্বরতার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুক্স মিনহাস বলেন, পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভয় ও উদ্বেগও যেন তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্বেগকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের পণ্য ও সাপ্লিমেন্ট বিক্রির একটি বড় বাজারও তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
সাইমনের মতো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই এসব বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন। তবে তিনি এখনো নিজের শুক্রাণুর পরীক্ষা করাননি এবং তার উর্বরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো চিকিৎসাগত কারণও পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ধারণে সমস্যা না থাকলে বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
