ঢাকা
১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৯:৪০
logo
প্রকাশিত : জুলাই ১৫, ২০২৫

মিটফোর্ডের ঘটনা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ : হাসান হাফিজ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেছেন, হঠাৎ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আমরা যেখানে জুলাই বিপ্লবের এক বছরে কী পেলাম, কী পেলাম না তার হিসাব মেলাবো; এরই মধ্যে এই ধরনের একটা অনভিপ্রেত এবং পৈশাচিক ঘটনা ঘটল। এটা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এটি একটি ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, যদি আলামতগুলো বিচার করা হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে, দুইদিন পরে ভিডিওটা ভাইরাল করা হলো।

তিনি বলেন, ‘সরকারের এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থা কী করেছে, পুলিশ কী করেছে, আনসার কী করেছে? সেদিনের ঘটনা মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এত নিখুঁত ভিডিও কীভাবে করা হলো? এসব কারণে এটার মধ্যে একটা পরিকল্পিত ঘটনা আছে, যেটা এই জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করার একটা ষড়যন্ত্র। সামনে যে আসন্ন নির্বাচন সেটাকেও বিঘ্নিত করার জন্য, ব্যাহত করার জন্য, সেটাকে কালিমা লিপ্ত করার জন্য, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য কোনো কোনো মহল সক্রিয় আছে বলে আমার মনে হচ্ছে। সরকারের উচিত সুনির্দিষ্টভাবে এটার ব্যাখ্যা জাতির সামনে উপস্থাপন করা।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী আছে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে আমরা সেভাবে রাস্তাঘাটে টহল দিতে দেখছি না। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় বড় অবনতি হচ্ছে, ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে। এসবের পরও সরকার বলেছে যে, বড় ধরনের নাকি কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।

এটা তো খুবই দুঃখজনক। বড় ধরনের ঘটনা বলতে কি একসঙ্গে ৫০-১০০ জনকে মেরে ফেলতে হবে। এটাও তো গ্রহণযোগ্য না। সরকারের কোনো কোনো কাঁচা কাজ আমাদের খুবই ব্যথিত করে। আমরা চাই না যে এই সরকারের ভাবমূর্তি বিঘ্নিত হোক, কলঙ্কিত হোক, কলুষিত হোক।

আমরা চাই যে সসম্মানে তারা একটা গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু অবাধ, সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে এরকম একটা নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুক।’

একটি টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট করে কী লাভ— এমন প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, ‘একটা মহল চাচ্ছে যে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য এবং সেই ষড়যন্ত্রটা দেশের মধ্যেও আছে, দেশের বাইরেও আছে। এছাড়া ভারত তো বারবার বলেছে যে, এই সরকারের সঙ্গে আমাদের সেরকম কোনো সমঝোতা হবে না। এটা ভারতের সেনাবাহিনী প্রধানও বলেছেন।

তাদের মুখপাত্র কয়েকদিন পর পর ছোট একটা ঘটনা ঘটে, সেগুলো নিয়ে সিরিয়াসভাবে তৈরি হয়ে থাকে বলার জন্য। আর ইন্ডিয়াতে যেরকম মুসলিমদের ওপরে যেসব নির্যাতন হচ্ছে আমরা তো এই ব্যাপারে কিছু বলছি না। দিল্লিতে যে কৃষকদের বিদ্রোহ হচ্ছে সেটা নিয়ে তো আমরা গান লিখি না। এখন শাহবাগে যখন আন্দোলন হয়, যখন ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়, তখন প্রণব মুখার্জী এসে বলে যে আমার প্রাণ চাচ্ছে ওখানে যেতে। তাই আমাদেরকে এগুলো সর্ট আউট করতে হবে।’

‘আসলে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করেই থাকতে হবে এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমমর্যাদায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব হতে হবে। এটার মধ্যে কোনো আপস করার, নতজানু হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবসান হয়েছে, আমরা ভবিষ্যতের এটার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। ছাত্ররা যেটা লড়াই করে এনেছে সেটাকে আমরা সংহত করতে চাই, স্থায়ী করতে চাই। যত ঐক্য নষ্টকারী ষড়যন্ত্রই আসুক, অন্তর্ঘাত আসুক, ভায়োলেন্স আসুক এগুলো রুখতে হবে। নির্বাচন হতেই হবে। কারণ, দেশ আলটিমেটলি রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সততা এবং দেশপ্রেম নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলি না। কিন্তু দক্ষতা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোভ নিয়ে আমি সমালোচনা করি।’

হাসান হাফিজ বলেন, ‘তারা কিভাবে বলে যে— মানুষ বলছে পাঁচ বছর আমাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। এগুলো তো খুবই অমার্জনীয় জিনিস এবং কোনো অ্যাকশন আমরা দেখি না। আমরা দেখি যে একজন তথ্য উপদেষ্টা আছেন, তিনি কোনো কথা বলছেন না। তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি তো সরকারের একজন মুখপাত্র। এছাড়াও আরো বিভিন্ন জায়গা থেকে দায়িত্বহীন উক্তি করা হচ্ছে। দায়িত্বহীন ইন্টারপ্রেটেশন করা হচ্ছে। এখনকার ভাষায় যেটা ন্যারেটিভ বলা হয়।

আমরা সেগুলো চাই না। আমরা চাই যে একটা পরিপক্কতার পরিচয় দিক, বিচক্ষণতার পরিচয় দিক। এক বছর হয়ে গেছে সরকারের, হানিমুন পিরিয়ড বহু আগে শেষ হয়ে গেছে। কোনো অন্তর্বর্তী সরকার এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকেনি এবং এত ম্যাসাকার কখনো হয়নি। আমরা যদি সেটা তুলনামূলক স্টাডি করি সেটা দেখতে পাব। আমরা এটা চাই না। আমরা এই সরকারকে সফল দেখতে চাই এবং একটা সুন্দর রাজনৈতিক উত্তরণ আমরা চাই। একটা সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া চাই।’

এখন কেউ কেউ বলছেন নির্বাচনের দরকার কী— এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসান হাফিজ বলেন, ‘এগুলো হলো কাঁচা কথা, খুবই অপরিপক্ব। তাদের রাজনীতির পাঠ নিতে হবে। আমরা যতটা পারি ঐক্যটা প্রতিষ্ঠার জন্য ছাড় দিয়ে, সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে, সংযমের পরিচয় দিয়ে, দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে ঐক্যমত করতে হবে। তবে অনেক জায়গায় ঐক্যমত হয়েছে, অনেক গ্যাপ দূর হয়েছে। যে ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে এবং এগুলো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারব। সেটা সরকারেরই মূল দায়িত্ব। এখানে কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে যেসব করা হচ্ছে সেগুলো খুবই মর্মান্তিক। তারেক রহমান তো দেশ চালাচ্ছেন না। জবাব তো দিতে হবে এই সরকারকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে, প্রধান উপদেষ্টাকে। এটার মধ্যে কোনো খাতির করার সুযোগ নাই। কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নাই।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram