

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর ঠিক আগ মূহূর্তে দেশটিতে অবস্থিত নিজের কূটনৈতিক কার্যক্রম আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াও দেশটিতে নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) থেকে তাদের কনস্যুলার সেবা পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। একইসঙ্গে কোনো ধরনের সহায়তার জন্য মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা অন্য কোনো কূটনৈতিক কার্যালয়ে না যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির প্রকৃতি বা নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে ব্রাজিলীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।এর পরপরই ব্রাজিলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত সোফি ডেভিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মার্কিন বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসও বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং নাগরিকদের মার্কিন স্থাপনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ জানায়, মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে সাও পাওলো ও রাজধানী ব্রাজিলিয়ার আশপাশের অঞ্চলে আগাম তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এই অভিযান চালানো হলেও প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা মেলেনি বা কোনো অপরাধ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু যোগাযোগের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বনসোনারো। উল্লেখ্য, অভুত্থ্যান চেষ্টার অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।
নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তাহলে আগামী ২৫ অক্টোবর রানঅফ (দ্বিতীয় দফার ভোট) অনুষ্ঠিত হবে।
লুলার দল ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি এদিও সিলভা এই কূটনৈতিক কার্যক্রম বন্ধের ঘটনাকে ‘বিস্ময়কর’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “এটির কোনো মাথামুণ্ডু নেই। ব্রাজিলের জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য এটি ট্রাম্পের একটি কৌশল মাত্র।”
লুলার মিত্ররা মার্কিন শুল্কনীতি ও ‘নির্বাচনি সততা’ নিয়ে আলোচনার নামে ওয়াশিংটন থেকে কর্মকর্তা পাঠানোর প্রচেষ্টাকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক সমর্থন না দিলেও ফ্লাভিও বনসোনারোর প্রশংসা করে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনটি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
