

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের শাসন পদ্ধতির সমালোচনা করে তাকে ‘নেপালি হিটলার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জনতা সমাজবাদী পার্টির (জেএসপি) সদস্য মহান্থ ঠাকুর।
বুধবার জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় এ মন্তব্য করেন জনতা সমাজবাদী পার্টির (জেএসপি) জাতীয় পরিষদের সদস্য মহান্ত ঠাকুর।
তিনি অভিযোগ করেন, বালেন্দ্র (বালেন) শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আন্তরিকতার অভাব দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
মহান্থ ঠাকুর আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, বোর্ডিং স্কুল ও নার্সিং হোমগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান লাখো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, এসব পদক্ষেপ নেপালের অর্থনীতিকেও আরো দুর্বল করবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে মহান্থ ঠাকুর বলেন, ‘তাকে আমরা কী বলব—নেপালি স্বৈরশাসক, নাকি নেপালি হিটলার? তিনি নেপালি হিটলারে পরিণত হয়েছেন। তিনি যা বলেন সেটাই সঠিক, তিনি যা করেন সেটাই আইন। এভাবে দেশকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংগঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সরকার ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিলুপ্ত করেছে, কারণ এসব সংগঠনের কার্যক্রম তারা সহ্য করতে পারছে না।
মহান্থ ঠাকুর বলেন, সরকারের এই শাসনব্যবস্থা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সূত্র : এএনআই
