ঢাকা
২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:০১
logo
প্রকাশিত : জুন ২২, ২০২৬

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। দিল্লির পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি ঘোষণা করে বলেন যে, ‘যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, এবং পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ, হুমকিতে পড়েছে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব। অবশ্যই।’

তিনি আরও দাবি করেন যে ভারত যদি অত্যন্ত উদ্বেগজনক গতিতে পাকিস্তানের পানি সরবরাহ ব্যাহত করার কোনো পদক্ষেপ নেয় এবং ইসলামাবাদ যদি এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়, তবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন উসকানিমূলক মন্তব্য মূলত গত এপ্রিল মাসে পাহলগামে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে এসেছে। ওই হামলায় ২৬ জন মানুষ নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ জলচুক্তিটি দৃঢ়ভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের সীমান্ত পারের সমস্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান সাধারণত সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি তাদের কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করার আইনি অধিকার পেয়ে থাকে। তবে বর্তমানে দেশের ভেতরে তীব্র অব্যবস্থাপনার কারণে পাকিস্তানের বিশাল ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণ নয়াদিল্লির ওপর চাপানোর চেষ্টা করে অভিযোগ করেছেন যে ভারত মূলত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখছে।

অবশ্য খাজা আসিফ দাবি করেছেন যে অতীতে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল ভারতের বিভিন্ন জলপ্রকল্পে প্রায় ১১৫ বার পরিদর্শন বা পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করেছিল। তবে বিগত এক বছরে সীমান্তের ওপাড়ে ঠিক কী ধরনের উন্নয়ন বা পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে বর্তমানের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই বলে তিনি স্বীকার করেছেন যা তার নিজের তোলা অভিযোগের সত্যতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দেয়।

পাকিস্তান-ভারতের মধ্যবর্তী সিন্ধু নদ।
অন্য দিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার কারণে দেশটির সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ মানুষ এখন তীব্র পানির অভাবে ভুগছেন। সিন্ধু প্রদেশের সেচ বিভাগের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী দেশটির সেচ অবকাঠামোগুলো এখন চরম ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমানে উত্তর পশ্চিম খালে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

দক্ষিণ পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারাজে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় নেতারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। প্রদেশের অভ্যন্তরীণ পানি বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধের সমাধান করতে সরকারের স্পষ্ট ব্যর্থতাকেই এই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram