ঢাকা
১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৪৯
logo
প্রকাশিত : জুন ১৪, ২০২৬

জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে সুইজারল্যান্ডে আজ গণভোট

দেশের জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে আজ রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি পাস হলে এটি বিশ্বে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই উদ্যোগকে ঘিরে এরইমধ্যে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের মতে, টেকসই উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এটি জরুরি। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

কী আছে প্রস্তাবে?

ডানপন্থি সুইস পিপল’স পার্টির সমর্থিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে পারবে না।

জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালে সরকারকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অনুমোদন সীমিত করা এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে আনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।

যদি জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছে যায়, তাহলে সুইজারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান কিছু চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

অভিবাসন নিয়ে তীব্র মতভেদ

প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, এই পরিকল্পনা অবাস্তব এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তারা মনে করেন, এতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সুইস সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

শ্রমবাজারে সংকটের আশঙ্কা

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা খাত এবং বয়স্কদের সেবার মতো ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ এসব খাতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন।

তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসন সীমিত করা হলে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

দ্রুত বেড়েছে জনসংখ্যা

২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৯১ লাখে পৌঁছেছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশই বিদেশে জন্মগ্রহণকারী।

প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, এসব সমস্যার জন্য শুধু অভিবাসনকে দায়ী করা ঠিক নয়; অর্থনৈতিক ও নীতিগত আরও অনেক কারণ এর সঙ্গে জড়িত।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। যদিও প্রস্তাবের বিরোধীরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে বলে আভাস মিলেছে।

তবে এখনও বিপুলসংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। ফলে ফলাফল কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিশ্চিত গণভোটগুলোর একটি।

এই বিতর্ক সুইজারল্যান্ডে জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন নীতি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীর মতভেদের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram